অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, চীনা নাগরিকসহ আটক ২

30
ঢাকার টঙ্গী এলাকার ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাত লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক চীনা নাগরিকসহ দুইজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে যশোরের স্থানীয়রা। ওই গ্রাহকের টাকা ব্যবসায়ী মিঠু মজুমদারের হিসাবে স্থানান্তর করে তারা কৌশলে মিঠুর কাছ থেকে চেক নিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর ব্যবসায়ী মিঠু মজুমদার স্থানীয়দের সহায়তায় বুধবার বিকেলে যশোর শহরের আরএন রোড এলাকা থেকে তাদের আটক করেন।
আটকরা হলো, চীনা নাগরিক চাওশিং ও যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম।
মিঠু হার্ডওয়্যার স্টোরের মালিক মিঠু মজুমদার জানান, যশোর আইটি পার্কে কর্মরত পরিচয় দিয়ে ইমরানসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার দোকান থেকে বিভিন্ন মালামাল কিনতেন। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত সোমবার চীনা নাগরিকসহ ইমরান ও আরও কয়েকজন তার দোকানে আসেন। তারা ৪৬ হাজার টাকার পণ্য কেনার পর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে মিঠুর ব্যাংক হিসাবে সাত লাখ টাকা পাঠান। ওই সময় প্রতারক চক্রের সদস্যরা তাকে জানান, পণ্যের মূল্য বাদে বাকি টাকার বিনিময়ে তাদের একটি ব্যাংক চেক দিতে হবে। আগে থেকেই পরিচিত হওয়ায় এবং নিজের ব্যাংক হিসাবে সাত লাখ টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি তাদের একটি চেক দেন। পরবর্তীতে প্রতারক চক্রটি ওই চেক ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে পালিয়ে যান। কিছুসময় পর ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিঠু মজুমদারকে ব্যাংকে ডেকে পাঠায়। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ঢাকার টঙ্গি এলাকার ইসলামী ব্যাংকের একটি শাখার গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সাত লাখ টাকা তার ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছিল। পরে সেই টাকা চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করেন।

মিঠু মজুমদার বলেন, প্রতারণার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত দায় তার ওপরই এসে পড়ে। এরই মধ্যে বুধবার বিকেলে আরএন রোড এলাকার আরেকটি দোকানে ওই চীনা নাগরিক ও ইব্রাহিমকে দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চীনা নাগরিকের নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তবে তার বিস্তারিত পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং হ্যাক হওয়া ব্যাংক হিসাব থেকে কীভাবে টাকা স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।