শরণার্থীদের ব্যবহৃত তিনটি হোটেল বন্ধের ঘোষণা

41

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার কাজে ব্যবহৃত তিনটি হোটেল সম্প্রতি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। হোম অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্ল্যাকপুলের মেট্রোপোল হোটেল, হেলের ব্রিটানিয়া অ্যাশলে এবং স্যান্ডব্যাচের চিমনি হাউস তাদের মূল মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, ২০২৯ সালের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখা পুরোপুরি বন্ধের প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে বলে জানিয়েছেন সীমান্ত নিরাপত্তা ও শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী অ্যানা টার্লি।

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের জন্য বরাদ্দ করা হোটেলগুলোর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক চলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের তিনটি হোটেল তাদের আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হোটেলগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে এখন নতুন করে পর্যালোচনা করছে মালিকপক্ষ।

ব্ল্যাকপুল সাউথের লেবার দলীয় এমপি ক্রিস ওয়েব মেট্রোপোল হোটেল বন্ধের প্রচারণায় দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন। তিনি জানান, এলাকাটি অনিরাপদ এবং স্থানীয় সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছিল। ২০২১ সালে মাত্র তিন মাসের জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা ভঙ্গ করা হয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, হোটেলটি আবার ব্যবসা পরিচালনা করলে তা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী অ্যানা টার্লি জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে ১১টি এবং জুনে আরও ২০টি শরণার্থী হোটেল বন্ধ করা হয়। সর্বোচ্চ সময়ে যুক্তরাজ্যে ৪০০টি হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হতো, যাতে প্রতিদিন খরচ হতো ৯০ লাখ পাউন্ড। বর্তমানে এই সংখ্যা কমে ১৬০টির নিচে নেমে এসেছে। সর্বশেষ ১৩টি হোটেল বন্ধের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় হবে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকার জানিয়েছে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে হোটেল ব্যবহারের পরিবর্তে এখন সাবেক সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শরণার্থী থাকার বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় অধিবাসীদের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে ভবনগুলো পুনরায় আগের মতো পর্যটন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করছে।

#aknews #onebanglanews #যুক্তরাজ্য #শরণার্থী #সংবাদ