ইসরায়েলি হামলার কারণে মার্কিন-ইরান চুক্তি স্বাক্ষর পিছিয়েছে: ট্রাম্প

103
বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতের হুমকির পরও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বহুল প্রতীক্ষিত চুক্তিটি নির্ধারিত পথেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইসরায়েলের এই আকস্মিক হামলার কারণে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ‘কয়েক ঘণ্টা’ পিছিয়ে গেছে উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ কে দেওয়া এক একান্ত ফোনালাপে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

অ্যাক্সিওসের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলি হামলা সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। এতে চুক্তি স্বাক্ষর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিলম্বিত হয়েছে। এটা আরো আগেই হওয়ার কথা ছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আর কয়েক ঘণ্টা পরেই সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।

ট্রাম্প জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক এক ঘণ্টা আগে যখন তাঁর উপদেষ্টারা বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার খবরটি তাঁকে ফোনে জানান, তখন তিনি চরম হতবাক ও ক্ষুব্ধ হন। নেতানিয়াহুর প্রতি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, এটি খুবই খারাপ একটি বিষয় এবং তিনি এটি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, কারণ ঠিক এক ঘণ্টা পরেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা ছিল।

ইসরায়েল এই চুক্তির বিষয়ে সন্দিহান হলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তিটি মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্যই সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাঁর মতে, এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে, পারমাণবিক উপাদান নিষ্পত্তি করতে বাধ্য করবে এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের অনুমতি দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণ সামনে এনেছে। ইসরায়েলের হামলার পরও ট্রাম্প যেভাবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান দেখাচ্ছেন, তা ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সবকিছু ঠিক থাকলে, কয়েক ঘণ্টার বিলম্ব কাটিয়ে আজ রবিবারের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক মার্কিন-ইরান চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।