দেশের অর্থনীতিতে গত সপ্তাহের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন

51

সাইফ হাসান: দেশের অর্থনীতি গত সপ্তাহে মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে যেখানে একদিকে নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে বড় উত্থান দেখা গেছে তেমনি অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার খবর পাওয়া গেছে। বিনিয়োগকারীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডলার সংকট এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি থমকে থাকার মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনও প্রকট। বিশেষ করে উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি এবং বিদেশি বাণিজ্যের অসম চুক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়িক আস্থা ফেরানো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি বাড়ানোই এখন অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাপক চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। গত সপ্তাহে সূচক ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় বড় বিনিয়োগকারীরা আবারও বাজারে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন যার ফলে প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে উজ্জ্বল বাজারের খবরের বিপরীতে উন্নয়ন খাতে হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের হার গত ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে যা দেশের অবকাঠামো খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে বরাদ্দকৃত বাজেটের খুব সামান্য অংশই ব্যয় করা সম্ভব হয়েছে যা সরাসরি জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ১৯ শতাংশ শুল্ক সুবিধার কথা বলা হলেও এতে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করতে হবে। সমালোচকরা বলছেন এই শর্ত বাংলাদেশের পোশাক খাতের চেয়ে ওয়াশিংটনকেই বেশি লাভবান করবে যা আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

দেশের টেলিকম খাতের শীর্ষ অপারেটরদের সাথে নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি লড়াই আরও জোরালো হয়েছে। অডিট দাবি এবং স্পেকট্রাম ফি নিয়ে এই বিরোধ আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে যা ভবিষ্যতে এই খাতের বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এ ছাড়া স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে ধরা পড়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীল করতে পারলেও শিল্প উৎপাদন এখনও স্থবির হয়ে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটের কারণে কলকারখানার চাকা আগের মতো সচল হচ্ছে না যা সামগ্রিক পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন বেসরকারি খাতে আস্থা ফেরাতে হলে দ্রুত আইনি সংস্কার এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

#aknews #onebanglanews #bangladesheconomy #stockmarketnews #businessrecap #tradedeal