সাইফ হাসান: লন্ডনের উত্তর অংশে হাম বা মিজলস পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং নতুন করে আরও বহু মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে এনফিল্ডে ১৬ জন এবং নিকটবর্তী হ্যারিংগে এলাকায় ১০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লন্ডনে মোট ৮৮ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন যার বড় একটি অংশই ১০ বছরের কম বয়সী শিশু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকা না নেওয়া শিশুদের স্কুল থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে লন্ডনে টিকা নেওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এই প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যেখানে পুরো ইংল্যান্ডে গড় টিকাদানের হার ৮৩.৭ শতাংশ সেখানে লন্ডনে এই হার মাত্র ৬৯.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে এনফিল্ড এলাকায় এই হার মাত্র ৬৪.৩ শতাংশ যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনএইচএস লন্ডনের সিনিয়র ক্লিনিকাল উপদেষ্টা ড. ওগে ইলোজু জানান অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভুল তথ্যের কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের টিকা দিতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে এই টিকা পুরোপুরি নিরাপদ এবং দীর্ঘকাল ধরে সফলভাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। অনেকে হামকে সাধারণ রোগ মনে করে অবহেলা করলেও এটি পরবর্তীতে শরীরে জটিল সমস্যা তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
হ্যারিংগে কাউন্সিলের সদস্য লুসিয়া দাস নেভেস জানান তারা স্থানীয় স্কুল এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করছেন। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং টিকার আওতায় আনতে এনএইচএস ও এনফিল্ড কাউন্সিলের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে হ্যারিংগে কর্তৃপক্ষ। পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা সবাইকে দ্রুত টিকার ডোজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যে ২৯০০ জনের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হওয়ার পর দেশটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হাম মুক্ত দেশের মর্যাদা হারিয়েছে। ২০২৫ সালেও প্রায় ১০০০ রোগী শনাক্ত হয়েছিল যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংক্রমণ। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রিটিশ সরকার শিশুদের টিকাদানের হার বাড়াতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে।
#aknews #onebanglanews #measlesoutbreak #londonhealth #vaccination















