সাইফ হাসান: সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের পরাজিত করে বিশাল জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দলটির এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। ৫ই আগস্টের পর কিছু নেতা-কর্মীর চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেট গঠনের মতো অপ*রাধ দলের ভাবমূর্তি দারুণভাবে নষ্ট করেছে। এছাড়া নারী ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে না পারাও বিএনপির জন্য একটি বড় পরাজয়ের কারণ হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী এবং সমন্বয়হীনতাও দলটির এই বিপর্যয়কে পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে।
সাতক্ষীরার নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে চারটি আসনেই জামায়াতের প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছেন। সাতক্ষীরা-১ আসনে জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন যেখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের আব্দুল খালেক প্রায় দেড় লাখ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে দলীয় কোন্দল এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে বিএনপি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই আসনে জামায়াতের রবিউল বাশার ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন যেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট। দলীয় প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন মাত্র ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন যা দলটির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ভোটারদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ এবং চিংড়ি ও বালু সিন্ডিকেট নিয়ে অস্থিরতা সাধারণ মানুষের কাছে দলের গ্রহণযোগ্যতা কমিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত অনেক আগে থেকেই সুসংগঠিতভাবে প্রচার চালিয়ে নারী ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ পরাজয় মেনে নিয়ে জানান যে প্রার্থী মনোনয়নে দেরি হওয়া এবং অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে সময় নষ্ট হওয়া তাদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। তিনি স্বীকার করেন যে ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন শুরু হলেও ২৭ ডিসেম্বর তা চূড়ান্ত হওয়ায় প্রচারের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সাতক্ষীরার জামায়াত শিবিরে উৎসবের আমেজ চললেও বিএনপিতে বিরাজ করছে চরম হতাশা।
#সাতক্ষীরা #রাজনীতি #নির্বাচন #aknews #onebanglanews















