শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তে অনড় ব্রিটিশ সরকার

205

 

সাইফ হাসান: আইসিসে যোগ দেওয়া শামীমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে লন্ডনের রাজনীতি। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী শামীমা যখন ১৫ বছর বয়সে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন তখন তাকে পাচারের শিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত। তবে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো আপস করবে না। শামীমার আইনজীবীরা দাবি করছেন যে কিশোরী বয়সে তাকে প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে নেওয়া হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকার তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি সূত্র বলছে যে এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বৈধ প্রমাণিত হয়েছে।

পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকা থেকে ২০১৫ সালে দুই বান্ধবীর সাথে সিরিয়ায় পাড়ি দিয়েছিলেন শামীমা বেগম। সেখানে গিয়ে তিনি এক জ*ঙ্গি সদস্যকে বিয়ে করেন এবং পরবর্তীতে তার তিনটি সন্তান হয় যাদের কেউই বেঁচে নেই। ২০১৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন। শামীমা বর্তমানে সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এবং সেখানে থেকেই তার নাগরিকত্ব ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR) সম্প্রতি ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছে যে নাগরিকত্ব বাতিলের আগে শামীমাকে পাচারের শিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল কি না।1 শামীমার আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স অভিযোগ করেছেন যে মাত্র ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েকে যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে সেখানে লুব্ধ করা হয়েছিল। তার মতে একজন স্কুলছাত্রীকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ও রাষ্ট্র চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

ব্রিটিশ সরকারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আইনি লড়াইয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে শামীমা বেগম স্বেচ্ছায় একটি চরমপন্থী স*ন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন করতে গিয়েছিলেন। এর আগেও যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ আদালতগুলোতে এই বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা শুনানি হয়েছে এবং প্রতিবারই নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টিও সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই তাকে দেশে ফিরতে দেওয়া হবে না।

শামীমা বেগমের পরিবার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালে রায় দিয়েছিল যে তার নাগরিকত্ব বাতিল হলেও তিনি রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়বেন না। কারণ উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার সুযোগ রাখেন যদিও বাংলাদেশ সরকার তাকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় আদালতের এই নতুন হস্তক্ষেপের ফলে মামলাটি কোন দিকে মোড় নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

#শামীমাবেগম #নাগরিকত্ব #লন্ডননিউজ #মানবাধিকার #aknews #onebanglanews