সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের শত শত অভিভাবক দত্তক নেওয়া শিশুদের মানুষ করতে গিয়ে চরম অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেছেন। বিবিসিকে তারা জানিয়েছেন যে সন্তানদের মানসিক সমস্যার জন্য কর্তৃপক্ষ সহায়তার বদলে উল্টো বাবা-মাকেই দায়ী করছে। দাতব্য সংস্থাগুলো সরকারের কাছে অবিলম্বে এই ব্যবস্থার সংস্কার এবং শিশুদের জন্য আজীবন থেরাপি ও সহায়তার দাবি জানিয়েছে। মূলত সঠিক গাইডলাইন ও সমর্থনের অভাবেই অনেক দত্তক নেওয়া শিশু শেষ পর্যন্ত পরিবারের সাথে থাকতে পারছে না।
বিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনের পর প্রায় সাতশো অভিভাবক তাদের করুণ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত পাঁচ বছরে এক হাজারেরও বেশি দত্তক নেওয়া শিশু পুনরায় সরকারি হেফাজতে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। অ্যাডপশন ইউকে নামের একটি সংস্থা বিষয়টি নিয়ে ইংল্যান্ডের শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের দাবি জানিয়েছে।
মিনা নামের একজন ভুক্তভোগী মা জানান তার ছেলে লেইটন অতিরিক্ত ম*দপানের কারণে গত বছর লিভার নষ্ট হয়ে মা\রা গেছে। মাত্র তিন বছর বয়সে তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল কিন্তু সে সবসময় নিজেকে অযোগ্য ভাবতো এবং তীব্র বিষণ্নতায় ভুগতো। মিনা অভিযোগ করেন সমাজকর্মীরা সাহায্যের বদলে উল্টো তাদের পরিবারকেই ছেলের এই অবস্থার জন্য দায়ী করতেন যা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
জেমস নামের আরেক বাবা জানান তার দত্তক সন্তানের জন্মগত শারীরিক সমস্যা বা এফএএসডি ছিল যার কারণে সে প্রায়ই উগ্র আচরণ করত। সমাজকর্মীরা তাদের সহায়তা করার বদলে অদ্ভুত সব পরামর্শ দিতেন, এমনকি তাকে আবারও সরকারি হেফাজতে দিয়ে দিতে হয়। জেমস বলেন সাহায্যের চাইলে যদি উল্টো দোষারোপ করা হয় তবে তা মেনে নেওয়া কঠিন।
কোরাম নামের দাতব্য সংস্থার প্রধান ড. ক্যারল হোমডেন বলেছেন বর্তমানে দত্তক ব্যবস্থাটি চরম চাপের মুখে রয়েছে। তিনি মনে করেন শিশুদের সুরক্ষার জন্য তাদের আজীবন মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং অভিভাবকদের দোষারোপ করার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। তবে সঠিক থেরাপি ও সহায়তা পেলে যে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে তার উদাহরণও উঠে এসেছে এমা ও জেফ দম্পতির কথায়।
#যুক্তরাজ্য #দত্তক_শিশু #সামাজিক_সমস্যা #অভিভাবক #বিবিসি_সংবাদ














