নারীদের ওপর হা*মলা কমাতে যুক্তরাজ্যের নতুন কৌশল ছেলেদের মানসিকতা বদলানো

82

সাইফ হাসান: নারীদের ওপর হা*মলা ও অপ*রাধ কমিয়ে আনতে যুক্তরাজ্যের সরকার এবার ভিন্নধর্মী এক কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করবেন যেখানে কিশোর ও তরুণদের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো আগামী এক দশকের মধ্যে নারীদের ওপর সহিং*সতার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা। মূলত স্কুল এবং বাড়িতে তরুণদের উগ্র হওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং তাদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগামী বৃহস্পতিবার এই কৌশলটি আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরবেন। গত এক বছরে তিনবার পেছানোর পর অবশেষে এই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হচ্ছে, যাকে মন্ত্রীরা বর্তমানে একটি ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিবিসি জানতে পেরেছে যে এই কৌশলের ভিত্তি হবে তিনটি প্রধান লক্ষ্য, যার মধ্যে তরুণদের উগ্র হওয়া প্রতিরোধ করা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তা নিশ্চিত করা অন্যতম।

নতুন এই পরিকল্পনায় স্কুল, বাড়ি এবং অনলাইনে তরুণদের নারীবিদ্বেষী মনোভাব মোকাবিলা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষকদের সাথে কাজ করে সুস্থ সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অনেক কম বয়সেই ছেলেদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, তাই অভিভাবকদেরও সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে সহায়তা দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারদের কারণে তরুণদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন নারীবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত অ্যান্ড্রু টেটের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে। এছাড়া হোম অফিসের তথ্যে জানা যায়, গত এক বছরে প্রতি আটজন নারীর একজন পারিবারিক নির্যাতন বা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং পুলিশ প্রতিদিন প্রায় ২০০টি ধর্ষণের অভিযোগ রেকর্ড করে।

সরকারের এই কৌশল নিয়ে অবশ্য সমালোচনারও কমতি নেই। বিচার কমিটির এমপি অ্যান্ডি স্লটার বলেছেন, বারবার প্রকাশে দেরি করায় মনে হচ্ছে সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। অন্যদিকে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হেইলি জন্স নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, শুধু মুখে বড় কথা বললেই হবে না, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হবে, অন্যথায় এসব পরিকল্পনার কোনো মূল্য নেই।

#যুক্তরাজ্য #নারী_নিরাপত্তা #আন্তর্জাতিক_সংবাদ #নতুন_আইন #জনসচেতনতা