সাইফ হাসান: গুরুতর হাঁপানিতে ভোগা রোগীরা এবার থেকে প্রতিদিন স্টেরয়েড ট্যাবলেট নেওয়া বন্ধ করতে পারবেন। একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, প্রতি মাসে একটি মাত্র ইনজেকশন বা টিকার মাধ্যমে হাঁপানিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৬০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ হাঁপানিতে আক্রান্ত। নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে ‘তেজেপেলুম্যাব’ (Tezepelumab) নামে একটি ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শ্বাসনালীর প্রদাহকারী প্রোটিনকে ব্লক করে। এই আবিষ্কার গুরুতর হাঁপানি রোগীদের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক স্টেরয়েড ট্যাবলেট সেবনের ফলে হাড়ের ক্ষয় (অস্টিওপরোসিস), ডায়াবেটিস এবং সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ‘ওয়েফাইন্ডার’-এ দেখা গেছে, যারা প্রতি চার সপ্তাহে তেজেপেলুম্যাব ইনজেকশন নিয়েছেন, তারা কোনো ক্ষতিকারক প্রভাব ছাড়াই স্টেরয়েডের মাত্রা কমাতে বা পুরোপুরি বন্ধ করতে পেরেছেন। অ্যাস্ট্রাজেনেকা দ্বারা তৈরি এই ওষুধটি ‘টেজস্পায়ার’ (Tezspire) নামেও পরিচিত।
কিং’স কলেজ লন্ডন পরিচালিত ‘ওয়েফাইন্ডার’ ট্রায়ালে প্রায় ৩০০ প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। এরা গুরুতর, অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানিতে ভুগছিলেন এবং দৈনিক ৫ মিলিগ্রাম থেকে ৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত স্টেরয়েড ট্যাবলেট গ্রহণ করতেন। যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো এবং স্পেনসহ মোট ১১টি দেশের রোগীরা এই ট্রায়ালে অংশ নেন।
এক বছর চিকিৎসার পরে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকেরও বেশি তাদের হাঁপানির অবস্থার অবনতি না ঘটিয়ে পুরোপুরি স্টেরয়েড ওষুধ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ রোগী স্টেরয়েডের ব্যবহারকে কম মাত্রায় নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। এই গবেষণার ফল দ্য ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক ডেভিড জ্যাকসন, যিনি কিং’স কলেজ লন্ডনের শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছেন, এই ইনজেকশনটি অ্যালার্জিজনিত উপসর্গগুলিকেও দমন করে এবং দীর্ঘস্থায়ী রাইনোসাইনুসাইটিস (Chronic Rhinosinusitis) উন্নত করে। অ্যাজমা + লাং ইউকে-এর গবেষণা ও উদ্ভাবন পরিচালক ডঃ সামান্থা ওয়াকার এই ফলাফলকে “অবিশ্বাস্যভাবে উৎসাহব্যঞ্জক উন্নয়ন” বলে অভিহিত করেছেন।
#গুরুত্বর_হাঁপানি #তেজেপেলুম্যাব #নতুন_চিকিৎসা #স্টেরয়েড_মুক্ত_হাঁপানি #অ্যাস্ট্রাজেনেকা















