সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে খাবার সরবরাহকারী ডেলিভারি রাইডারদের মধ্যে বেআইনি ই-বাইকের ব্যবহার মারাত্মক আকার নিয়েছে। আইন অনুযায়ী ই-বাইকের সর্বোচ্চ গতিসীমা ১৫.৫ মাইল (২৫ কিমি/ঘণ্টা), তবে পুলিশ সম্প্রতি ৭০ মাইল গতিসম্পন্ন বাইক জব্দ করেছে। এগুলো আসলে মোটরবাইক, কিন্তু লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন বা বিমা ছাড়াই চলছে।
লন্ডনের বিশপসগেটে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশি তরুণ মাহেদে হাসান (২১), যিনি উবার ইটসের রাইডার। তিনি অনলাইনে মাত্র £৬০০-তে বাইকটি কিনেছিলেন, ভেবে যে এটি বৈধ। কিন্তু পুলিশ পরীক্ষা করে দেখে বাইকটির গতি সীমা আইনি মাত্রার দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে বাইক জব্দ হয়, তাকে £৩০০ জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে ৬ পয়েন্ট কাটা হয়। হাসান অভিযোগ করেন, অনলাইনে অবৈধ বাইক বিক্রি হলেও কোনো সতর্কতা থাকে না।
শুধু হাসান নন, লন্ডনে প্রায় ৭০% ডেলিভারি রাইডারই এমন বাইক চালান বলে ধারণা। কারণ এগুলো সস্তা, দ্রুত এবং একাধিক ব্যাটারি ব্যবহার করা যায়। ফলে বেশি অর্ডার ডেলিভারি দিয়ে সামান্য আয় বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু এ বিপজ্জনক বাইক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সালে ৯১ বছরের জিম ব্ল্যাকউড এক ই-বাইকের ধাক্কায় প্রাণ হারান।
শুধু দুর্ঘটনা নয়, নিম্নমানের ব্যাটারি থেকে আগুন লাগার ঘটনাও বাড়ছে। ২০২৩ সালে লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড ১৭৯টি ই-বাইক ও ই-স্কুটার আগুনের ঘটনায় সাড়া দেয়। এমনকি ব্যাটারি বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী মোহসিন জানজুয়া।
এমপি ফ্যাবিয়ান হ্যামিলটন একে “চোখের সামনে লুকিয়ে থাকা সংকট” বলে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, অবৈধ ই-বাইক শুধু রাস্তাঘাটে নয়, গিগ ইকোনমি শ্রমিকদের চরমভাবে শোষণ করছে। ডেলিভারি কোম্পানিগুলো ন্যূনতম আয়ের নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে অনেকে ঘণ্টায় ৭-৮ পাউন্ডও পান না।
সরকারি নিয়মশৃঙ্খলার অভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ছে এ বিপজ্জনক যান। পুলিশ প্রতিদিন বাইক জব্দ করছে, কিন্তু অনলাইনে অবাধ বিক্রি, কোম্পানির চাপ আর শ্রমিকদের বাঁচার সংগ্রাম মিলিয়ে সমস্যা আরও গভীর হচ্ছে।















