মানসিক হাসপাতালে ১৪ বছরের কিশোরীর মৃত্যু: তদন্তে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

146

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের একটি মানসিক হাসপাতালে ১৪ বছরের এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে জানা গেছে, তাকে নিরন্তর পর্যবেক্ষণের কথা থাকলেও একজন এজেন্সি কর্মী, যিনি জাল পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন, তাকে নজরে রাখেননি। এ ঘটনার পর ওই কর্মী যুক্তরাজ্য ছেড়ে পালিয়েছেন। মেয়েটির বাবা-মা হাসপাতালের সেবা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তদন্ত এখনো চলছে।

তদন্তে জানা গেছে, রুথ সিমানকিউইচ নামে ১৪ বছর বয়সী এই কিশোরী মানসিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তিনি খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তাকে নিরন্তর পর্যবেক্ষণে রাখার কথা ছিল। কিন্তু নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সহায়ক কর্মী, যিনি এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাকে প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য একা রেখে যান। এই সময়ে রুথ তার ঘরে গিয়ে নিজেকে ক্ষতি করেন, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়।

রুথের মা কেট সিমানকিউইচ আদালতে বলেন, “আমার মেয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। হাসপাতালে তার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা তার কাছে যন্ত্রণার মতো ছিল।” তিনি আরো বলেন, “আমরা বাবা-মা হিসেবে তাকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি।” রুথের বাবা-মা জানান, তাদের মেয়ে একজন উজ্জ্বল, স্নেহময়ী এবং দুঃসাহসিক মেয়ে ছিল, যে খেলাধুলা এবং পশুপ্রেমী ছিল। কিন্তু কৈশোরে এসে তার মধ্যে টিক্স এবং সম্ভবত টুরেট সিনড্রোম দেখা দেয়। তাকে অ্যানোরেক্সিয়া রোগে ভুগতে হয়।

তদন্তে জানা যায়, ওই কর্মী জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছিলেন। তার নাম এবো আচেম্পং বলে জানা গেলেও, তিনি ঘটনার পর হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঘানায় পালিয়ে যান। পুলিশ জানায়, “তিনি আর কখনো ফিরে আসেননি। তিনি রুথকে এবং সবাইকে হতাশ করেছেন।” হাসপাতালের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। রুথের মা বলেন, “আমাদের মেয়েকে যথাযথ সেবা দেওয়া হয়নি। তাকে শুধু নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, সাহায্য করা হয়নি।”

রুথের বাবা-মা আরো জানান, হাসপাতালে থাকাকালীন রুথের শরীরে কালো দাগ এবং আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, কিন্তু কর্মীরা এর কারণ জানাতে পারেননি। হাসপাতালটি, যা অ্যাকটিভ কেয়ার গ্রুপ নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। তদন্তে জানা গেছে, এই হাসপাতাল সম্পর্কে কেয়ার কোয়ালিটি কমিশনের দুটি নেতিবাচক প্রতিবেদন ছিল। বাকিংহামশায়ার করোনার আদালতে এই শুনানি চলমান রয়েছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian