ডাক্তারদের ধর্মঘট: জনসমর্থন কমছে, স্ট্রিটিং-বিএমএ বৈঠক

142

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের পাঁচ দিনের ধর্মঘটের পরিকল্পনার মধ্যে জনসমর্থন অর্ধেকে নেমেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই ধর্মঘট এড়াতে বিএমএ’র সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। ডাক্তাররা ২২% বেতন বৃদ্ধির পর আরো ২৯% বৃদ্ধির দাবি করছেন। জনমত জরিপে মাত্র ২৬% মানুষ এই ধর্মঘট সমর্থন করেন।

ইংল্যান্ডে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের (পূর্বে জুনিয়র ডাক্তার নামে পরিচিত) পাঁচ দিনের ধর্মঘট ২৫ জুলাই থেকে শুরু হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এই ধর্মঘটকে ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করলেও ব্রিটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সঙ্গে আলোচনার জন্য বৈঠকে বসছেন। সরকার ডাক্তারদের এ বছর ৫.৪% বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, যা গত দুই বছরে ২২% বৃদ্ধির পর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ডাক্তাররা বলছেন, ২০০৮ সালের তুলনায় তাদের বেতনের প্রকৃত মূল্য অনেক কমে গেছে।

বিএমএ’র রেসিডেন্ট ডাক্তার কমিটির সহ-সভাপতি রস নিউওডট এবং মেলিসা রায়ান বলেন, “আমরা সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার আশা করছি, যাতে ধর্মঘট স্থগিত করার মতো অগ্রগতি হয়।” তবে, ইপসসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ধর্মঘটের প্রতি জনসমর্থন গত বছরের ৫২% থেকে কমে ২৬%-এ নেমেছে। ৪১% মানুষ ধর্মঘটের বিরোধিতা করেন, এবং ২৪% নিরপেক্ষ।

ইপসসের জরিপ অনুসারে, লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ডাক্তাররা ২২% বেতন বৃদ্ধি পেলেও এখন ২৯% বৃদ্ধির দাবি করছেন, যা কয়েক বছরে পূরণের প্রত্যাশা। এই দাবি জনসাধারণের মধ্যে সমর্থন হ্রাসের কারণ হতে পারে। ইপসসের গিডিয়ন স্কিনার বলেন, “এই গ্রীষ্মে ধর্মঘট হলে এটি হবে প্রথমবার যখন রেসিডেন্ট ডাক্তাররা জনসাধারণের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া ধর্মঘট করবেন।” এছাড়া, ৪৩% মানুষ মনে করেন সরকার ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনায় ব্যর্থ হচ্ছে।

বিএমএ’র নতুন নেতা ড. টম ডলফিন বলেন, “আমরা জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞ, তবে বুঝি মানুষ এখন কেন ধর্মঘট নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।” তিনি বলেন, “২২% বৃদ্ধি আমাদের বেতনের প্রকৃত মূল্য পুনরুদ্ধারের একটি অংশ মাত্র। গত ১৭ বছরে আমাদের বেতনের প্রকৃত মূল্য ২০% কমেছে। একজন নতুন ডাক্তারের ঘণ্টায় ২২.৬৭ পাউন্ড বেতন ন্যায্য।” তিনি আরো বলেন, “যখন মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলি, তারা বোঝেন যে ৩০% বেতন কমলে তারা কী করত।”

স্ট্রিটিং বলেন, “২৮.৯% বেতন বৃদ্ধির পর জনসমর্থন কমেছে। রোগীরা ডাক্তারদের ধর্মঘট না করার অনুরোধ করছেন। বিএমএ’র উচিত অযৌক্তিক ধর্মঘট বাতিল করে সরকারের সঙ্গে কাজ করা।” তিনি ডাক্তারদের উপর জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেন। নিউওডট ও রায়ান বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে চিকিৎসকরা এনএইচএস ছেড়ে না যান। সরকার সহজেই এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।”

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian