ভ্যাপিং নিয়ে নতুন সতর্কতা: তামাকের ক্ষতি ফিরিয়ে আনছে!

170

সাইফ হাসান: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, ভ্যাপিং এবং নতুন নিকোটিন পণ্য তামাক নিয়ন্ত্রণে অর্জিত সাফল্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। এগুলো আক্রমণাত্মকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণদের টার্গেট করে। ডব্লিউএইচও উচ্চ কর আরোপ এবং ভ্যাপে সিগারেটের মতো স্বাস্থ্য সতর্কতা চিত্র ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এই পণ্যগুলো নিয়ন্ত্রণ না করলে তামাকের ব্যবহার বাড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভ্যাপিং এবং নিকোটিন পাউচের মতো পণ্য তামাক নিয়ন্ত্রণে অর্জিত অগ্রগতিকে পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ডাবলিনে অনুষ্ঠিত তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক বিশ্ব সম্মেলনে কর্মকর্তারা বলেন, তামাক ব্যবহারকারীদের ছাড়তে সাহায্য, মিডিয়ায় প্রচারণা এবং উচ্চ কর আরোপের ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণরা এসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। ডব্লিউএইচও পরামর্শ দিয়েছে, সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহৃত স্বাস্থ্য সতর্কতার ছবি ভ্যাপ এবং অন্যান্য নিকোটিন পণ্যেও ব্যবহার করা উচিত।

গত দশকে অনেক দেশে তামাক পণ্য আরো সাশ্রয়ী হয়েছে, যদিও ডব্লিউএইচও সিগারেটে ৭৫% কর আরোপের সুপারিশ করেছে। ৪৬টি দেশে সিগারেটের দাম বাড়লেও, ৪২টি দেশে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ২৩টি দেশে, এটি আরো সস্তা হয়েছে। ১৩৩টি দেশ এখন ভ্যাপ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা ২০০৭ সালে মাত্র ৮টি ছিল। তবে ৬২টি দেশে এখনো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ধনী দেশগুলোর ৯০% ভ্যাপ নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করেছে, কিন্তু দরিদ্র দেশগুলোর মাত্র ২৭% এগিয়েছে।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস বলেন, “তামাক নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক সাফল্য পেয়েছি, কিন্তু তামাক শিল্প ক্রমাগত নতুন পণ্য নিয়ে আসছে। আমাদেরও নতুন কৌশল নিতে হবে।” তিনি বলেন, এই পণ্যগুলো তরুণদের নিকোটিনের প্রতি আকৃষ্ট করছে, যা তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে পারে।

ডব্লিউএইচও’র স্বাস্থ্য প্রচারণা বিভাগের পরিচালক ড. রুডিগার ক্রেচ বলেন, “এই নতুন পণ্যগুলো এত আক্রমণাত্মকভাবে বাজারজাত করা হচ্ছে যে, এটি জনস্বাস্থ্যের অর্জনকে নষ্ট করছে।” তিনি আরো বলেন, “হাজার হাজার নতুন পণ্যের সঙ্গে জাতীয় নিয়ন্ত্রকদের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন। তবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের প্রতি আসক্ত করছে।” সার্ভে অনুযায়ী, ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৬% শিশু ই-সিগারেট ব্যবহার করে।

এনসিডি অ্যালায়েন্সের নীতি ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক অ্যালিসন কক্স বলেন, “তামাকজনিত রোগ ও অকাল মৃত্যু কমাতে এখনো অনেক পথ বাকি। কর বাড়ানো সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ, যা তামাক ব্যবহার কমায়, জীবন ও স্বাস্থ্য ব্যয় বাঁচায় এবং সরকারের আয় বাড়ায়।” ডব্লিউএইচও’র প্রতিবেদন ছয়টি তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়, যার মধ্যে রয়েছে কর আরোপ, ধূমপানমুক্ত আইন, তামাক ব্যবহার নিরীক্ষণ এবং প্রচারণা।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian