রক্তের ক্যানসারে আক্রান্তদের জন্য ইংল্যান্ডে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রোজান হর্স’ ওষুধ

107

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডে রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত হাজার হাজার রোগী বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘ট্রোজান হর্স’ নামে পরিচিত একটি অগ্রগামী ওষুধ পাবেন। এই ওষুধ, বেলান্তামাব মাফোডোটিন, মাল্টিপল মায়েলোমা রোগের অগ্রগতি সাধারণ চিকিৎসার তুলনায় তিন গুণ বেশি সময় ধরে থামাতে পারে। প্রতি তিন সপ্তাহে ইনফিউশনের মাধ্যমে দেওয়া এই ওষুধ ক্যানসার কোষের ভেতরে প্রবেশ করে তা ধ্বংস করে। এটি রোগীদের জীবনকে বদলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডে প্রতি বছর প্রায় ১,৫০০ মাল্টিপল মায়েলোমা রোগী এই নতুন চিকিৎসা থেকে উপকৃত হবেন। এই রোগ হাড়ের মজ্জার একটি দুরারোগ্য ক্যানসার। শুক্রবার, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার এক্সিলেন্স (নাইস) এই ওষুধটির জন্য অনুমোদন দেয়। বেলান্তামাব মাফোডোটিন, যা ব্লেনরেপ নামেও পরিচিত, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন তৈরি করেছে। এটি এমন রোগীদের জন্য দেওয়া হবে যাদের ক্যানসার প্রাথমিক চিকিৎসায় সাড়া দেয়নি বা অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের ক্যানসার বিষয়ক জাতীয় ক্লিনিকাল ডিরেক্টর প্রফেসর পিটার জনসন বলেন, “মায়েলোমা একটি আক্রমণাত্মক রক্তের ক্যানসার। এই নতুন চিকিৎসা রোগীদের জন্য বছরের পর বছর ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, যা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আরও মূল্যবান সময় দেবে।” তিনি আরও বলেন, ইংল্যান্ডের রোগীরা এই চিকিৎসা থেকে প্রথম উপকৃত হবেন।

মায়েলোমা ইউকে-এর গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক শেলাগ ম্যাককিনলে বলেন, “এনএইচএস বিশ্বের প্রথম স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হিসেবে এই ওষুধ চালু করছে, এটা অসাধারণ। আমরা গত এক বছর ধরে এই অনুমোদনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এটি হাজার হাজার মায়েলোমা রোগীর জীবন বদলে দেবে।” শেফিল্ডের ৬০ বছর বয়সী পল সিলভেস্টার, যিনি ২০২৩ সালে মায়েলোমায় আক্রান্ত হন, বলেন, “প্রথম ডোজের দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই আমি রিমিশনে চলে গিয়েছিলাম। এই ওষুধ আমার জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে এনেছে।”

গবেষণায় দেখা গেছে, বোর্তেজোমিব ও ডেক্সামেথাসোনের সঙ্গে এই চিকিৎসা রোগের অগ্রগতি গড়ে তিন বছর বিলম্বিত করে, যেখানে সাধারণ ওষুধ ডারাটুমুমাবের ক্ষেত্রে এটি এক বছর। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কারিন স্মিথ বলেন, “এই অগ্রগামী চিকিৎসা এনএইচএস-কে ক্যানসার উদ্ভাবনের অগ্রভাগে নিয়ে গেছে। ‘ট্রোজান হর্স’ প্রযুক্তি রক্তের ক্যানসারে আক্রান্তদের নতুন আশা দিচ্ছে।”

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian