বালিমেনায় অভিবাসীদের ওপর হামলা: ভয়ে দিন কাটছে বিদেশিদের

29

সাইফ হাসান: উত্তর আয়ারল্যান্ডের বালিমেনায় অভিবাসীদের বাড়ি ও ব্যবসায় হামলা চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। দুই রাতের দাঙ্গায় ৩২ পুলিশ আহত, অনেক সম্পত্তি পুড়ে ছাই। অভিবাসীরা পালানোর কথা ভাবছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, অভিবাসীরা অপরাধ বাড়াচ্ছে।

৯ ও ১০ জুন ২০২৫-এ বালিমেনার ক্লোনাভন রোডে শত শত মুখোশধারী অভিবাসীদের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের ওপরও হামলা হয়। চেক প্রজাতন্ত্রের অভিবাসী ব্লাঙ্কা হার্নাগিয়া বলেন, “আমরা জানালায় ব্রিটিশ পতাকা টাঙিয়েছি, যাতে তারা আমাদের রেহাই দেয়। আমরা এখনো এখানে আছি।” তিনি ভয়ে ঘুমাতে পারছেন না।

পোল্যান্ডের ডেভিড নামে একজন বলেন, “জনতা দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিল। আমরা দোতলায় ছিলাম। তারা জানালা ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। পেছনের দরজা দিয়ে পুলিশ স্টেশনে পালিয়েছি।” ১৪ বছর বালিমেনায় থাকা ডেভিড এমন ঘটনা আগে দেখেননি। তার গর্ভবতী বান্ধবীর পরিবার বুলগেরিয়ায় ফিরে যেতে চায়।

দাঙ্গার সূত্রপাত এক কিশোরীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগে। দুই ১৪ বছরের ছেলের বিচারে রোমানিয়ান দোভাষী ছিলেন। এরপর জনতা অভিবাসীদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। স্থানীয় ড্যানিয়েল ও’নিল বলেন, “অভিবাসীরা শহরে অপরাধ বাড়াচ্ছে। আমরা নিরাপদ নই।” তার স্বামী রায়ান বলেন, “সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আমরাই তাদের বের করে দেব।”

বালিমেনার ডেপুটি মেয়র টাইলার হোয়ে দাঙ্গার নিন্দা করলেও বলেন, “অপরীক্ষিত অভিবাসীদের এখানে আনা হচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।” স্থানীয় ডি নামে একজন বলেন, “অভিবাসীরা সুবিধা পাচ্ছে, আর আমরা কর দিচ্ছি। পুলিশ তাদের অপরাধ উপেক্ষা করে।” তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে তার স্লোভাক প্রতিবেশীর বাড়ি ভাঙা হয়েছে।

অভিবাসীরা নিরাপত্তার জন্য ফিলিপিনো পতাকা বা ইউনিয়ন জ্যাক ব্যবহার করছেন। কিন্তু ফিলিপিনো পরিবারের গাড়িও পোড়ানো হয়েছে। পুলিশ ফেডারেশনের লিয়াম কেলি বলেন, “এটি নৃশংস দাঙ্গা। আমরা বড় ধরনের হামলা ঠেকিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শান্তি ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian