বার্মিংহামে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু: অভিভাবকদের অবহেলায় !

96

সাইফ হাসান: বার্মিংহামে তিন বছরের শিশু আবিয়াহ ইয়াশারাহইয়ালাহর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা-মা দায়ী। কঠোর ভিগান খাদ্যাভাস ও অপুষ্টির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়। সামাজিক সেবা সংস্থাগুলোর তদন্তে দেখা যায়, শিশুটি তাদের নজরে ছিল না। বাবা-মা ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হন এবং কারাদণ্ড পান।

বার্মিংহামের হ্যান্ডসওয়ার্থে বসবাসকারী তিন বছরের আবিয়াহ ইয়াশারাহইয়ালাহ ২০২০ সালের শুরুতে শ্বাসযন্ত্রের রোগে মারা যায়। তার শরীরে অপুষ্টি, রক্তশূন্যতা এবং রিকেটসের মতো সমস্যা ছিল, যা তার বাবা-মায়ের দেওয়া সীমিত ভিগান খাবারের কারণে আরও তীব্র হয়। স্থানীয় শিশু সুরক্ষা পর্যালোচনায় বলা হয়, আবিয়াহর জীবনে পেশাদারদের সংস্পর্শ খুবই কম ছিল।

আবিয়াহর বাবা তাই (৪২) এবং মা নাইয়াহমি (৪৩) তাদের নিজস্ব বিশ্বাস ও আইন ব্যবস্থা ‘স্লিক ল’ অনুসরণ করতেন, যা ইগবো সংস্কৃতির উপাদান নিয়ে গঠিত। তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং বাড়ির দরজায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার নোটিশ ঝুলিয়েছিলেন। শিশুটির মৃত্যুর পর তারা আট দিনের একটি আচার পালন করেন, এই আশায় যে তাদের ছেলে পুনর্জন্ম লাভ করবে। এরপর তারা শিশুটির দেহ বাড়ির বাগানে কবর দেন।

২০২২ সালে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সময় দেহটি পাওয়া যায়। পুলিশ ২০১৮ সালে তাদের বাড়িতে তিনবার গিয়েছিল, কিন্তু আবিয়াহর উপস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য রেকর্ড করা হয়নি। সামাজিক কর্মীরাও পাঁচবার বাড়িতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাদের পরিদর্শন ছিল খুবই সীমিত। পর্যালোচনায় বলা হয়, অভিভাবকদের বিশ্বাস ও জীবনধারা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় আবিয়াহর সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়নি।

পর্যালোচনা প্যানেলের চেয়ার অ্যানি হাডসন বলেন, “শিশুদের জীবন কেমন, তা বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবকদের আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে উদাসীন হওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “অভিভাবকদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তাদের বিশ্বাস বা সংস্কৃতি শিশুদের সুরক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ালে পেশাদারদের সতর্ক থাকতে হবে।”

তাই ও নাইয়াহমি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সোমারসেটে একটি শিপিং কন্টেইনারে থাকার সময় গ্রেপ্তার হন। কভেন্ট্রি ক্রাউন কোর্টে তাদের বিচারে শিশু নিষ্ঠুরতা, শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী হওয়া এবং বিচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাইকে ২৪ বছর ছয় মাস এবং নাইয়াহমিকে ১৯ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian