বিদেশে টাকা পাঠানোর কেলেঙ্কারি বাড়ছে: ব্যাংকগুলোর প্রতি কঠোর নিরাপত্তার আহ্বান

65

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতি রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রতারকরা মানুষকে প্রতারিত করে বিদেশে টাকা পাঠাতে বাধ্য করছে। নতুন নিয়মে দেশের মধ্যে টাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও, বিদেশে পাঠানো টাকার ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা নেই। ২০২৪ সালে এই ধরনের জালিয়াতির পরিমাণ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যে অথরাইজড পুশ পেমেন্ট (এপিপি) জালিয়াতি নামে পরিচিত এই অপরাধ গত বছর ২০% কমেছে। ইউকে ফাইনান্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ২৩২,০০০ কেস ছিল, যা ২০২৪ সালে কমে ১৮৬,০০০-এ দাঁড়িয়েছে। তবে, মোট ক্ষতির পরিমাণ মাত্র ২% কমে ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড হয়েছে। এর মানে, কম মানুষ বেশি টাকা হারাচ্ছেন। নতুন নিয়ম, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উদ্যোগের কারণে এই কমে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই ধরনের জালিয়াতির কারণে ক্ষতির পরিমাণ ১১% ছিল, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই পেমেন্টগুলো নতুন নিয়মের আওতায় পড়ে না, ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। হুইচ?-এর নীতি ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক রোসিও কনচা বলেন, “প্রতারকরা ক্রমাগত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে জালিয়াতির সংখ্যা বৃদ্ধি দেখে হতাশ হলেও এটি অপ্রত্যাশিত নয়।” তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক পেমেন্টের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।

এপিপি জালিয়াতির মধ্যে ৭১% ক্রয় জালিয়াতি, যেখানে শিকার ব্যক্তি পণ্য বা সেবার জন্য টাকা দেন, কিন্তু সেগুলো হয় অস্তিত্বহীন বা পৌঁছায় না। বিনিয়োগ জালিয়াতিতে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালে এই ধরনের জালিয়াতিতে ১৪৪ মিলিয়ন পাউন্ড চুরি হয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩৪% বেশি। প্রতারকরা শিকারদের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভুয়া ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য প্রলুব্ধ করে।

ইউকে ফাইনান্স নিজেও জালিয়াতির শিকার হয়েছে। তাদের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি একটি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “আমরা জানি, কেউ ইউকে ফাইনান্সের প্রতিনিধি সেজে ঋণের জন্য অগ্রিম ফি চেয়ে জালিয়াতি করছে।” তারা কোনো আর্থিক পণ্য সরবরাহ করে না। এদিকে, ভিসা জানিয়েছে, জাল বিক্রয় ওয়েবসাইট, ম্যালিসিয়াস অ্যাপ, ফিশিংয়ের মাধ্যমে কার্ডের তথ্য চুরি এবং এআই-চালিত পরিচয় জালিয়াতি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে বাড়ছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian