সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের এক শিক্ষক ও ব্যারিস্টার দম্পতি তাদের দত্তক নেওয়া পাঁচ শিশুর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ। হাইকোর্টে বিচারক মিসেস জাস্টিস থেইস শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য তাদের নাম প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। নির্যাতনের মধ্যে ছিল শিশুদের মাথায় আঘাত, সাবান খাওয়ানো এবং জাতিগত অপমান। শিশুরা এখন যত্ন ব্যবস্থায় ফিরে গেছে।
ইংল্যান্ডের এই দম্পতি বাইরে সুখী পরিবারের ছবি তুলে ধরলেও ঘরের ভেতরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিশুদের মাথা একসঙ্গে ঠুকে দিয়েছেন, তাদের সাবান খাওয়াতেন এবং একজনকে “কালো জারজ” বলে গালি দিয়েছেন। ব্যারিস্টার, যিনি শিশু মামলায় বিশেষজ্ঞ এবং ডেপুটি ডিস্ট্রিক্ট জজ হিসেবে কাজ করতেন, এ Ascension from Birmingham এই নির্যাতনের বিষয়ে জানতেন কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেননি। আদালত জানায়, শিশুদের শারীরিকভাবে আঘাত করা হতো, খাবার থেকে বঞ্চিত করা হতো এবং তাদের জুতা ছাড়া বাইরে লক আউট করা হতো।
বিচারক মিসেস জাস্টিস থেইস বলেন, “এই মামলায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং শিশুদের গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি কঠিন সিদ্ধান্ত।” তিনি শিশুদের মঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে নাম প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেন। দ্য ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম (টিবিআইজে) জনস্বার্থে নাম প্রকাশের দাবি জানিয়েছিল। তারা যুক্তি দিয়েছিল, দম্পতির পেশাগত অবস্থান—শিক্ষক এবং বিচারক হিসেবে শিশুদের সঙ্গে কাজ করা—জনসাধারণের জানার অধিকার তৈরি করে। তবে শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই দাবি নাকচ হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দুই ছোট শিশু পুলিশের কাছে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। তারা জানায়, শিক্ষক তাদের দেয়ালে ঠেলে দিয়ে গলা চেপে ধরে হত্যার হুমকি দিয়েছেন, ছোট জুতা পরতে বাধ্য করেছেন এবং জাতিগত অপমান করেছেন। একটি শিশুকে “এন-ওয়ার্ড” বলা হয়েছিল। বড় ভাই, যিনি তখন ফস্টার কেয়ারে ছিলেন,ও নির্যাতনের কথা জানান। আদালতের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয় দম্পতির মানসিক স্বাস্থ্যের দাবির কারণে। পুলিশ তদন্ত জুলাই ২০২৪-এ বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।
শিশুদের অভিভাবক বলেন, নাম প্রকাশ করলে তাদের অভিজ্ঞতা বৈধ হবে এবং ভবিষ্যতে মিথ্যা দাবির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে। তবে দম্পতি শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের শর্তে নাম গোপন রাখতে সম্মত হন। বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন একটি গুরুতর সমস্যা, যেখানে আইনি সুরক্ষা এবং সচেতনতার অভাব রয়েছে। এই ঘটনা শিশুদের অধিকার রক্ষায় আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















