ব্রিটেনে ৫০ বছর কাটিয়েও দেশ ছাড়ার ঝুঁকিতে কেন এই প্রবীণ …

43

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বসবাস করার পরও দেশ ছাড়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন ৬২ বছর বয়সী টনি হল। মাত্র ১২ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে আসা এই প্রবীণ গত ১৪ বছর ধরে ব্রিটিশ হোম অফিসের ডিপোর্টেশন তালিকায় আটকা পড়ে আছেন। ২০০১ সালের একটি পুরোনো অপ*রাধের দায়ে আট বছর জে*ল খাটার পরও প্রশাসন এখনও তাকে বার্বাডোজে ফেরত পাঠাতে অনড় রয়েছে। বার্বাডোজে কোনো স্বজন না থাকা এবং সেখানকার কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি কার্যত রাষ্ট্রহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কোনো কাজ বা সরকারি সহায়তা না পেয়ে চরম দুর্দশায় পড়া টনি এখন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে বাকি জীবন কাটানোর আকুতি জানিয়েছেন।

টনি হল ১৯৭৬ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে বার্বাডোজ থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। তার মা লন্ডনের একটি জিন কারখানায় কাজ করে অর্থ জমিয়ে সন্তানদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসেন এবং টনির সৎ বাবা ব্রিটিশ রেলে মেকানিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে শৈশবে লন্ডনের স্কুলে বর্ণবাদের শিকার হওয়া এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠা টনি ২০০১ সালে একটি নিরাপত্তা ভ্যানে ডাকাতির পরিকল্পনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আট বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন।

সাজা শেষ হওয়ার পর ২০১০ সালে ব্রিটিশ হোম অফিস তাকে বিমানে করে বার্বাডোজে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলেও দেশটির কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রহণ করেনি। যুক্তরাজ্যে অর্ধশতক কাটানো টনির বার্বাডোজে কোনো জীবিত স্বজন বা অতীত স্মৃতি নেই, এমনকি লন্ডনের কাউন্সিল তার ফ্ল্যাট খালি করে সব কাগজপত্র ফেলে দেওয়ায় তিনি কার্যত রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তিনি ডিপোর্টেশন তালিকায় থাকায় কোনো কাজ করার অনুমতি নেই এবং প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর তাকে হোম অফিসের রিপোর্টিং সেন্টারে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

বর্তমানে টনি তার বোনের আশ্রয়ে থাকলেও বোন নতুন বাসায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি এখন রাস্তায় নেমে পুরোপুরি হোমলেস হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে টনি জানান, তিনি যৌবনের ভুলের মাশুল দিয়েছেন এবং গত ২৫ বছরে কোনো অপরাধ করেননি, অথচ এখনো তাকে স্বাভাবিক জীবন শুরু করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি পরিচয়পত্র ও নাগরিকত্বের প্রমাণের অভাবে তিনি ২০১৪ সালে বিয়ে করার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

এমটিসি সলিসিটর্সের আইনজীবী নাগা কান্দিয়া হোম অফিসকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, টনি হল যুক্তরাজ্য সরকারের ঐতিহাসিক ভুলের এক নিঃস্ব ভুক্তভোগী। উইন্ডরাশ প্রজন্মের আওতায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিপূরণ ও বৈধতা পেলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় টনির মতো অনেকেই এখনো মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। জীবনের ৫০টি বছর যুক্তরাজ্যে কাটানো টনি ক্ষোভের সঙ্গে জানান, তিনি ইংল্যান্ডের আলো-বাতাসে বড় হয়েছেন এবং নিজের বন্ধুদের মতোই একজন খাঁটি ব্রিটিশ, অথচ তাকে এখনো পরবাসী ভাবা হচ্ছে।

#যুক্তরাজ্য #উইন্ডরাশ #প্রবাসীসংবাদ #aknews #onebanglanews