সাইফ হাসান: রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট জিআরইউ ২৬১৬৫ ইউক্রেনে পশ্চিমা সাহায্যের প্রবাহ ব্যাহত করতে সীমান্তের নিরাপত্তা ক্যামেরা হ্যাক করেছে বলে অভিযোগ। যুক্তরাজ্য ও তার মিত্ররা জানিয়েছে, এই ইউনিট সীমান্ত, রেলস্টেশন ও সামরিক স্থাপনার কাছের ক্যামেরায় প্রবেশ করেছে। তারা ফিশিং ইমেইল ও চুরি করা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। এই হামলা ২০২২ সাল থেকে ন্যাটো দেশগুলোর বিরুদ্ধে চলছে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) জানায়, রাশিয়ার জিআরইউ ইউনিট ২৬১৬৫, যিনি এপিটি ২৮ বা ফ্যান্সি বেয়ার নামে পরিচিত, সাহায্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করেছে। তারা প্রায় ১০,০০০ ক্যামেরায় প্রবেশ করেছে, যার ৮০% ইউক্রেনে, ১০% রোমানিয়ায়, ৪% পোল্যান্ডে, ২.৮% হাঙ্গেরিতে এবং ১.৭% স্লোভাকিয়ায়। এই ক্যামেরাগুলো সীমান্ত, রেলস্টেশন ও সামরিক স্থাপনার কাছে ছিল। এনসিএসসি’র পরিচালক পল চিচেস্টার বলেন, “রাশিয়ার এই কার্যক্রম সাহায্য সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি। আমরা সংস্থাগুলোকে সুরক্ষার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলছি।”
এই হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাশিয়া ট্রেনের সময়সূচি ও শিপিং তথ্যের মতো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। তারা পর্নোগ্রাফি ও ভুয়া পেশাদার তথ্যসহ ফিশিং ইমেইল পাঠিয়েছে। একটি ঘটনায়, তারা আইটি কর্মী সেজে ভয়েস ফিশিংয়ের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করে। এই ইমেইলগুলো লক্ষ্যবস্তুর মাতৃভাষায় লেখা হতো এবং একক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে পাঠানো হতো। এই হামলাগুলো ২০২২ সাল থেকে ন্যাটো দেশগুলোর সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।
এনসিএসসি পরামর্শ দিয়েছে, সংস্থাগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিরীক্ষণ বাড়াক, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করুক এবং নিরাপত্তা আপডেট দ্রুত প্রয়োগ করুক। এই পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্সসহ ১০টি দেশের সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে প্রকাশিত হয়েছে। জিআরইউ ইউনিট পূর্বে ২০১৬ সালে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির সাইবার হামলা এবং ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির তথ্য ফাঁসের জন্য অভিযুক্ত হয়েছে।
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে সাহায্য সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাশিয়ার এই হ্যাকিং কার্যক্রম সাহায্যের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা ইউক্রেনের জনগণের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, সাইবার নিরাপত্তা এখনও উন্নয়নশীল। এই ঘটনা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরে। সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং হ্যাকিং প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















