সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ বেকার ও পড়াশোনার বাইরে থাকা তরুণদের সরকারি ভাতা কমিয়ে কর্মসংস্থান তৈরির এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যালোচক অ্যালান মিলবার্ন জানিয়েছেন যে তরুণদের জন্য কল্যাণমূলক ভাতা ব্যবস্থার বড় ধরনের সংস্কার আসছে। বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার তরুণ কোনো শিক্ষা বা কাজের সঙ্গে যুক্ত নন, যা দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করছে। কর্মকর্তাদের মতে, তরুণদের কাজে উৎসাহিত করতে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতার মতো সুবিধায় বড় পরিবর্তন আনা হতে পারে। আগামী নভেম্বরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সরকারি নীতি ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার তরুণ বর্তমানে পড়ালেখা, চাকরি কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণে নেই, যাদের সংক্ষেপে নীত বলা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, আগামী ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে। অ্যালান মিলবার্ন সতর্ক করে বলেছেন, ২৪ বছর বয়সী এসব তরুণের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ কখনো কোনো কাজই করেনি, যা তাদেরকে কর্মজগৎ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে।
ব্রিটেনের ডিপার্টমেন্ট ফর ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশনস তরুণদের জন্য ইউনিভার্সাল ক্রেডিট স্বাস্থ্য খাতে বছরে প্রায় ৮০ কোটি পাউন্ড এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা বা পিআইপি বাবদ বছরে ৩২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে থাকে। সরকারের পর্যালোচক মিলবার্ন উল্লেখ করেন, বর্তমানে তরুণদের কর্মসংস্থানে প্রতি এক পাউন্ড খরচের বিপরীতে ভাতার পেছনে ২৫ পাউন্ড ব্যয় হচ্ছে। তিনি মনে করেন, ঘরে বসে মাসে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ভাতা পাওয়ার ব্যবস্থা অনেক তরুণকে কাজের সন্ধানে নিরুৎসাহিত করছে।
তবে কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন টিমস স্পষ্ট করেছেন যে জটিল ও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতায় ভোগা তরুণদের এই ধরনের ভাতা কাটছাঁট থেকে বাইরে রাখা হবে। একই সঙ্গে তিনি পিআইপি ভাতার ক্ষেত্রে কঠোর কোনো আর্থিক পরীক্ষা চাপিয়ে না দেওয়ার বিষয়টিও পরিষ্কার করেছেন। এর পাশাপাশি সরকারের ইয়ুথ গ্যারান্টি এবং পাথওয়েজ টু ওয়ার্কের মতো বড় প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের সরাসরি কর্মমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন যে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না বাড়িয়ে হঠাৎ ভাতা কমিয়ে দিলে তরুণদের মধ্যে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা চরম আকার ধারণ করতে পারে। এতে অনেক তরুণ মারাত্মক আর্থিক কষ্টে পড়ে সরাসরি হোমলেস হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে আগামী নভেম্বরে সরকারের এই নীতি ঘোষণার সময় তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।
#যুক্তরাজ্য #ব্রিটিশসংবাদ #তরুণপ্রজন্ম #aknews #onebanglanews















