অ্যালান টিউরিংয়ের বিরল কাগজপত্র শ্রেডার থেকে উদ্ধার, নিলামে উঠছে ১৫০ কোটি টাকায়!

116

সাইফ হাসান: কম্পিউটার বিজ্ঞানের জনক অ্যালান টিউরিংয়ের বিরল কাগজপত্র শ্রেডারে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই কাগজপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তার ১৯৩৮ সালের পিএইচডি গবেষণাপত্র এবং কম্পিউটিংয়ের ভিত্তি স্থাপনকারী নথি। আগামী ১৭ জুন নিলামে এগুলোর মূল্য ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই নথিগুলো আধুনিক কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

অ্যালান টিউরিংয়ের এই কাগজপত্রগুলো প্রায় ধ্বংসের মুখে ছিল। তার মৃত্যুর পর, ১৯৫৪ সালে, তার মা এথেল টিউরিং এগুলো তার বন্ধু ও গণিতজ্ঞ নরম্যান রাউটলেজের কাছে দেন। রাউটলেজ এগুলো লন্ডনের বারমন্ডসির বাড়ির ছাদের ঘরে রেখেছিলেন। ২০১৩ সালে রাউটলেজের মৃত্যুর পর তার বোন এই নথিগুলো উদ্ধার করেন এবং নিজের বাড়ির ছাদে রাখেন। পরে তিনি যখন কেয়ার হোমে যান, তার মেয়েরা এগুলো শ্রেডারে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু গত নভেম্বরে একটি পারিবারিক সম্মিলনে একজন আত্মীয় বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

রেয়ার বুক অকশনের পরিচালক জিম স্পেন্সার এই নথিগুলো মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, “একটি ক্যারিয়ার ব্যাগে এই কাগজপত্র দেখে আমি অবাক হয়েছি। টিউরিংয়ের কাজ যেন অন্য গ্রহের ভাষা, অতি-বুদ্ধিমান সভ্যতার রচনা।” এই নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৩৮ সালের ‘সিস্টেমস অব লজিক বেসড অন অর্ডিনালস’, যার মূল্য ৪০ থেকে ৬০ হাজার পাউন্ড। এছাড়া, ১৯৩৬ সালের ‘অন কম্পিউটেবল নাম্বারস’ নথি, যা ইউনিভার্সাল কম্পিউটিং মেশিনের ধারণা প্রবর্তন করে, তাও একই মূল্যে নিলামে উঠবে।

টিউরিং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্লেচলি পার্কে জার্মান এনিগমা কোড ভাঙার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা মিত্রশক্তির জয়ে সহায়ক ছিল। তার তত্ত্ব আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিত্তি গড়েছে। স্পেন্সার বলেন, “সিলিকন ভ্যালিতে এই নথির প্রতি আগ্রহ প্রবল হবে।” ১৯৫২ সালের ‘দ্য কেমিক্যাল বেসিস অব মরফোজেনেসিস’ নামে তার শেষ বড় প্রকাশনাও এই সংগ্রহে রয়েছে, যা জৈবিক তত্ত্বের মডেল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

টিউরিং সমকামিতার জন্য নির্যাতিত হন এবং ১৯৫৪ সালে ৪১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন। স্পেন্সার বলেন, “তার প্রতি এই অবিচার এবং তার প্রভাব দেখার জন্য বেঁচে না থাকার ঘটনা এই নথিগুলোকে আরও বিশেষ করে।” বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে ঐতিহাসিক নথি সংরক্ষণের সচেতনতা কম, এই ঘটনা ইতিহাস ও বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian