সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন কঠোর নিয়ম আসছে। আগামী সপ্তাহে প্রকাশিত হতে যাওয়া একটি সরকারি শ্বেতপত্রে এই নিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। নিয়োগকর্তাদের এখন প্রমাণ করতে হবে যে তারা স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ করছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশে নিট অভিবাসন কমানো, যা গত সরকারের আমলে বছরে ৯ লাখ ছাড়িয়েছিল।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি বিেশি কর্মী নিয়োগ করতে চায়, তাদের অবশ্যই দেখাতে হবে যে তারা স্থানীয় কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়াচ্ছে, যেমন অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সংখ্যা বৃদ্ধি। গত বছর স্বরাষ্ট্রসচিব ইয়েভেট কুপার প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে দক্ষ কর্মী ভিসার ওপর নির্ভরতা পর্যালোচনার জন্য স্বাধীন উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি এই খাতে আন্তর্জাতিক নিয়োগের কারণ এবং প্রশিক্ষণ, বেতন ও কাজের পরিবেশের প্রভাব খতিয়ে দেখেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিট অভিবাসন কমানোর জন্য চাপের মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে গতসপ্তাহে নাইজেল ফারাজের রিফর্ম পার্টির স্থানীয় নির্বাচনে সাফল্যের পর। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত নিট অভিবাসন ৯,০৬,০০০-এ পৌঁছেছিল, যা পরে ৭,২৮,০০০-এ নেমে আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের নেওয়া পদক্ষেপ, যেমন দক্ষ কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতন ২৬,২০০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ৩৮,৭০০ পাউন্ড করা, এই হ্রাসে ভূমিকা রেখেছিল।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং শ্রীলঙ্কা থেকে আসা ভিসাধারী আশ্রয়প্রার্থীরা সরকার¿বাসস্থানে থাকছেন। কর্মী ও ছাত্র ভিসায় আসা প্রায় ১০,০০০ আশ্রয়প্রার্থী গত বছর হোটেলের মতো সরকারি বাসস্থানে ছিলেন।
সরকার এখন জাতীয় অপরাধ সংস্থার সঙ্গে মিলে এমন দেশ থেকে আবেদনকারীদের তথ্যভান্ডার তৈরি করছে, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই তথ্যভান্ডার তৈরির সাফল্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এটি “অনিয়মিত” ফলাফলের কারণ হতে পারে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















