গেটশেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কিশোরের মৃত্যু: পরিবারের আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি

103

সাইফ হাসান: ইংল্যান্ডের গেটশেডে শুক্রবার রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ বছরের কিশোর লেটন কারের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবার তাকে “স্নেহশীল ও দয়ালু” হিসেবে স্মরণ করে আবেগঘন শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে, এবং স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

লেটনের পরিবার নর্থুমব্রিয়া পুলিশের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেছে, “লেটন ছিল অত্যন্ত দয়ালু ও প্রেমময় একটি ছেলে। জন্মের পর থেকেই তার ব্যক্তিত্ব স্পষ্ট ছিল। সে ছিল চঞ্চ, হাসিখুশি, কিন্তু তার মনে ছিল সোনার মতো হৃদয়। সে সবার জন্য সব করতে প্রস্তুত থাকত।” তারা আরও বলে, “লেটন তার মা ও বোনদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসত। আমরা তাকে এমন ভালোবাসি যা কথায় প্রকাশ করা যায় না। আমাদের উজ্জ্বল ও সুন্দর ছেলে, তুমি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবে।”

ঘটনাটি ঘটেছে গেটশেডের বিল কোয়ে এলাকার ফেয়ারফিল্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কাছে, রাত আটটার দিকে। অগ্নিকাণ্ডে লেটন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৩ ছেলে ও তিন মেয়েকে ম্যানস্লটারের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে, তাদের জামিে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আইনি কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

লেটনের পরিবারকে সাহায্য করতে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে এখন পর্যন্ত ১৫,০০০ পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। ১,২০০-এর বেশি মানুষ এতে অংশ নিয়েছে। তহবিলের অর্থ লেটনের সমাধি ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ এবং তার মায়ের জন্য আর্থিক সহায়তায় ব্যবহৃত হবে। একজন দাতা লিখেছেন, “পরিবারের কষ্ট কল্পনা করতে পারি না। সম্প্রদায়ের সবাই আপনাদের পাশে আছে।” আরেকজন লেটনের মাকে লিখেছেন, “তোমার ও লেটনের জন্য প্রার্থনা করছি। তার হাসি ছিল অসাধাণ।”

পরিবার পুলিশ ও জরুরি সেবাদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, “লেটনকে খুঁজে বের করতে সাহায্য করা সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।”

নর্থুমব্রিয়া পুলিশের ডিসিআই লুইস জেনকিনস বলেছেন, “এই দুঃখজনক সময়ে আমাদের চিন্তা লেটনের পরিবারের সঙ্গে। আমরা তাদের পাশে আছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ঘটনা নিয়ে গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন, এতে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “অপপ্রচার ছড়ানো একটি অপরাধ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা যাবে না, বিশেষ করে ১৮ বছরের কম বয়সীদের পরিচয়গোপন রাখা আইনি বাধ্যবাধকতা।”

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian