সাইফ হাসান: ব্রিটেনের তেল জায়ান্ট শেল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বিপি কেনার সম্ভাবনা নিয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে খবর। এমন একটি চুক্তি হলে তা তেল ও গ্যাস শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিলগুলোর একটি হবে। আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে এই খবর বাজারে বড় ধরনের আলোড়ন তুলেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শেল তাদের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিপি কেনার সম্ভাব্যতা এবং এর সুবিধা নিয়ে আলোচনা করছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানা গেছে। শেলের বাজার মূল্য ১৪ë৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা বিপির বাজার মূল্য ৫৫.৯ বিলিয়ন পাউন্ডের দ্বিগুণেরও বেশি। এই বিশাল পার্থক্যই শেলকে এই পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিপির শেয়ার মূল্য গত ১২ মাসে ৩০ শতাংশের বেশি কমেছে। প্রধান নির্বাহী মারে অচিনক্লসের নেতৃত্বে কোম্পানির পুনর্গঠন পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের মন জয় করতে পারেনি। এছাড়া, তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিপির আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বিপির মুনাফা ২.৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
শেলের প্রধান নির্বাহী ওয়েল সাওয়ানফাইনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, “আমরা সবসময় এ ধরনের সুযোগ দেখি, তবে বিকল্প পথগুলোও বিবেচনা করি। এই মুহূর্তে শেলের নিজস্ব শেয়ার পুনরায় কেনাই আমাদের জন্য সঠিক পথ।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, শেল এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং বড় ধরনের একীভূতকরণের পরিবর্তে শেয়ার পুনর্খরিদ বা ছোট অধিগ্রহণের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।
বিপির একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তবে শেলের একজন মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, “আমরা বারবার বলেছি, শেলের মূল্য সর্বাধিক করতে আমরা কর্মক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং সরলীকরণের ওপর জোর দিচ্ি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিপির দুর্বল শেয়ার মূল্য এবং আর্থিক চাপ এটিকে অধিগ্রহণের জন্য একটি আকর্ষণীয় লক্ষ্য করে তুলেছে। তবে শেল যদি এই পথে না যায়, তাহলে বিপি অন্য কোনো কোম্পানির প্রস্তাবের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। গত শুক্রবার শেলের প্রথম প্রান্তিকের মুনাফা ৫.৬ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম, তবে বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















