চরম সিদ্ধান্ত! স্কটল্যান্ডে নারীবিদ্বেষ ও রূপান্তর থেরাপি নিষিদ্ধ হচ্ছে না

133

সাইফ হাসান:স্কটল্যান্ড সরকার তাদের পূর্ব প্রতিশ্রুত নারী বিদ্বেষ ও রূপান্তর থেরাপি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা বাতিল করেছে। আগামী হোলিরুড নির্বাচনের আগেই আইনি জটিলতার কারণে এই দুইটি বিল আনার বিষয়টি থেকে সরে এসেছে তারা।

প্রথম মন্ত্রী নিকোলা স্টারজনের আমলে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল সুপারিশ করেছিল নারীবিদ্বেষকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিল আনার, যেটি যৌন সহিংসতা, অনলাইনে ঘৃণাত্মক মন্তব্য ও “ইনসেল” সংস্কৃতির মতো বিষয়গুলোকে কভার করবে।

মানবাধিকার আইনজীবী হেলেনা কেনেডি নেতৃত্বাধীন দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, “নারীবিদ্বেষ এতটাই গভীরভাবে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে গেঁথে আছে যে, এটা মোকাবিলায় আরও মূলগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

তবে শুক্রবার স্কটিশ পার্লামেন্টে মন্ত্রী জেমি হেপবার্ন জানান, এই আইনের বিষয়গুলো এতটাই জটিল যে সময়মতো স্পষ্ট ও কার্যকর আইন প্রণয়ন সম্ভব নয়। তাই তারা বিদ্যমান Hate Crime and Public Order Act-এ কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে নারীবিদ্বেষ অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

এ সিদ্ধান্তে নারী অধিকারকর্মীরা হতাশ। Rape Crisis Scotland-এর প্রধান স্যান্ডি ব্রিন্ডলি বলেন, “এমন সময়ে যখন নারীরা ব্যাপক নারীবিদ্বেষের মুখোমুখি, তখন সরকারের এই বিল বাতিল করাটা অস্বাভাবিক ও দুঃখজনক।”

অন্যদিকে, রূপান্তর থেরাপি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতিও বাতিল করেছে সরকার। নিকোলা স্টারজনের সময় স্কটিশ গ্রীন পার্টির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বিল আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এখন তারা এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে আইন প্রণয়ন করতে চায়।

সমানাধিকার বিষয়ক মন্ত্রী কাওকাব স্টুয়ার্ট বলেন, “যদি ইউকে সরকার এই আলোচনায় ব্যর্থ হয় কিংবা তা ট্রান্স-ইনক্লুসিভ না হয়, তবে নির্বাচনের পর স্কটল্যান্ড নিজস্ব বিল আনার কথা ভাববে।”

এদিকে, LGBTQ+ অধিকারকর্মীরা একে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে উল্লেখ করেছেন। End Conversion Therapy Scotland এর এক মুখপাত্র বলেন, “স্কটল্যান্ড অনেক আগেই এই থেরাপি নিষিদ্ধ করতে পারত। কিন্তু বারবার আমাদের পিছনে ছুরি মারা হচ্ছে।”

স্টুয়ার্ট জানান, “স্কটল্যান্ডে সমতা ও LGBTQI+ কমিউনিটির অধিকারের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি অটুট। আমরা একযোগে রূপান্তর থেরাপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”

কেনেডি বলেন, নারীদের সংখ্যা কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নয়, তাই নারীবিদ্বেষকে ঘৃণা অপরাধের আওতায় আনা যথার্থ নয়। পুলিশ ও আদালতের জন্য নারী-কেন্দ্রিক স্পষ্ট আইন থাকা দরকার বলেও মত দেন তিনি।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian