সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের ইস্পাত শিল্পের চলমান সংকটের জন্য শক্তি সচিব এড মিলিব্যান্ড এবং নেট জিরো নীতিকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল। তারা জানাচ্ছেন, পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং নেট জিরো এই শিল্পকে বাঁচাতে পারে।
গত শনিবার, ইংল্যান্ডের স্কানথর্পে অবস্থিত দেশের শেষ বড় আকারের ভার্জিন ইস্পাত উৎপাদনকারী কারখানাটি নিয়ন্ত্রণে নিতে জরুরি ক্ষমতাসংক্রান্ত একটি আইন পাস করে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট। কারখনাটির চীনা মালিক জিংয়ে সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রত্যাখ্যান করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কিছু রক্ষণশীল সংসদ সদস্য এবং ডানপন্থী গণমাধ্যম মিলিব্যান্ডের নেট জিরো নীতি এবং কাম্ব্রিয়ায় প্রস্তাবিত কয়লা খনির বাতিলের জন্য এই সংকটের দায় চাপিয়েছে। শ্যাডো বিজনেস সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ বলেন, “এই সংকটের জন্য শক্তি সচিব এবং তাকে নিয়োগকারী প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি দায়ী কেউ নেই।”
কিন্তু ইউকে এনার্জি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর রব গ্রস বলেন, “পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্য ইস্পাত শিল্পকে বাঁচাতে সাহায্য রতে পারে। যুক্তরাজ্যে উচ্চ শক্তির দাম এই সমস্যার একটি কারণ, কিন্তু এটি নেট জিরো নীতির জন্য নয়। গ্যাসের দামের ওঠানামা এখানে বড় ভূমিকা পালন করে।”
এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের শক্তি বিভাগের প্রধান জেস রালস্টন বলেন, “উচ্চ গ্যাসের দাম, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বেড়ে যায়, স্কানথর্প এবং পোর্ট ট্যালবটের জন্য চূড়ান্ত ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। নেট জিরো মানে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শক্তির স্বাধীনতা।”
তিনি আরও জানান, কাম্ব্রিয়ার কয়লা খনির কোকিং কয়লা স্কানথর্পের কারখানার জন্য উপযুক্ত ছিল না,ठারণ এর সালফারের পরিমাণ বেশি। এই খনির ৮৫% উৎপাদন রপ্তানির জন্য নির্ধারিত ছিল।
লেবার পার্টির একটি সূত্র জানায়, ইউকে স্টিল গত বছর বলেছিল, “বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য এই সমস্যার প্রধান কারণ, যা গ্যাসের ওপর নির্ভরতার জন্য হয়।” তারা বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে পরিচ্ছন্ন শক্তির লক্ষ্য বিল পরিশোধকারীদের সুরক্ষা দেবে এবং শক্তির স্বাধীনতা বাড়াবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জার্মানি, সুইডেন এবং চীনের মতো দেশ ইস্পাত শিল্পের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা করেছে, কিন্তু যুক্তরাজ্যে এর অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। আইপিপিআর থিঙ্কট্যাঙ্কের স্যা অ্যালভিস বলেন, “ইস্পাত শিল্পের সমস্যা নেট জিরো বা মিলিব্যান্ডের নীতির জন্য নয়। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা এর জন্য দায়ী।”
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian














