সাইফ হাসান: বিশ্বখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়রানি ও বুলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কর্মীদের ওপর করা একটি অভ্যন্তরীণ জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপের ফলাফল গোপন রাখার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।
জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৭% কর্মী তাদের বিভাগে হয়রানি ও বুলিং মোকাবিলার প্রক্রিয়ার প্রতি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। উদাহরণস্বরূপ, মেডকেল রিসার্চ কাউন্সিলের টক্সিকোলজি ইউনিটে ৬৯% কর্মী, প্যাথলজি বিভাগে ৬১%, এবং ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরিতে ৫৮% কর্মী বলেছেন, তারা হয়রানি মোকাবিলার প্রক্রিয়ায় অসন্তুষ্ট। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে (সিআরইউকে) কেমব্রিজ ইনস্টিটিউট এবং অনকোলজি বিভাগে এই হার ৫০%।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের অধ্যাপক উইন ইভান্স বলেন, “এই জরিপে হয়রানির একটি ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সবচেয়ে ধাক্কার বিষয় হলো, এক বছর আগে এই তথ্য জানার পরও বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।” তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো সিনিয়র অধ্যাপক গবেষণার জন্ প্রচুর অর্থ এনে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গ্রহণ করা হয় না।”
একজন ক্যান্সার গবেষক, যিনি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছেন, বলেন, “আমি একজন সিনিয়র অধ্যাপকের দ্বারা হয়রানি ও ভীতির শিকার হয়েছি। গবেষণা ছিল আমার জীবনের সবকিছু। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমার ব্যক্তিগত জীবন ধ্বংস করেছে। আমি ঘুমাতে পারতাম না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিই এবং সবাইকে এ ধরনের আচরণের রিপোর্ট করতে উৎসাহিত করি।” তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় নতুন আচরণবিধি চালু করেছে এবং কর্মকষেত্রে মর্যাদা ও অভিযোগ নীতি হালনাগাদ করেছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian














