কার্গো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে লন্ডন যাচ্ছেন বিমানমন্ত্রী

1065

ঢাকা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ থেকে সরাসরি আকাশপথে কার্গো পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনার জন্য লন্ডন যাচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। আগামী সোমবার (২৭ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। সেখানে তিনি ইউকে ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টের (ডিএফটি) সঙ্গে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিষয়ে আলেচনার করবেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে ২২ নভেম্বর ঢাকায় আসে যুক্তরাজ্যের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত এ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শাহজালালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক করবেন।

যুক্তরাজ্য সফর প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘সফরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দেশে ফিরে বিস্তারিত আপনাদের জানাবো।’

শনিবার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব জুড়ে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি নিয়ে হ্যার্জাড রয়েছে। আমারও সিকিউরিটি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানব্ন্দরের দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে।’ তিনি জানান, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) সেফটি স্ট্যান্ডার্ড কমপ্লায়েন্সের (ইফেকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন) দিক থেকে শতকরা ৭৭.৪৬ ভাগ অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

আইকাও বাংলাদেশে ‘আইকাও ভেলিডেশন মিশন’ নামক একটি অডিট কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এতে শতকরা ৭৭.৪৬ ভাগ অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এই প্রথম বাংলাদেশ এ অর্জন করেছে। এক্ষেত্রে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নেতৃস্থানীয়।

অনুষ্ঠানে রাশেদ খান মেনন আরও বলেন, ‘আমাদের বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। ফলে চাইলে যেকোনও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা কঠিন কাজ। তবে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মিত হলে যাত্রী সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরা আশা করছি ২০১৯ সালের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করতে পারবো।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। তার নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জায়গা নির্ধারণের কাজ চলছে। আমরা আাশা করছি, আগামী বছর বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।’ বাংলাদেশ এ অঞ্চলের এভিয়েশন হাব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণ দেখিয়ে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাজ্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেদেশে সরাসরি পণ্য পরিবহনে (কার্গো) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পাশাপাশি তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেয়। তাদের পরামর্শ অনুসারে, যুক্তরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা রেডলাইন সিকিউরিটিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নতকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।