কলকাতায় জঙ্গি সন্দেহে দুই বাংলাদেশিসহ ৩ জন আটক

802

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কলকাতা থেকে জঙ্গি সন্দেহে দুই বাংলাদেশিসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুইজনই বাংলাদেশি বলে দাবি করেছে দেশটির স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তারা হচ্ছেন সুনামগঞ্জের সামশাদ মিয়া ও বাগেরহাটের রিয়াজুল ইসলাম। একজন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বাসিন্দা। তার নাম মনোতোষ দে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই খবর প্রকাশ করেছে।

আজ মঙ্গলবার এসটিএফের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে কলকাতা স্টেশন থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর কাছ থেকে খবর পেয়ে এ তল্লাশি শুরু করে এসটিএফ।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহরে বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি মুরলিধর শর্মা জানান, আটকৃতরা অস্ত্র দেখানোর জন্য স্টেশন চত্বরে এসেছিল। তখনই তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অত্যাধুনিক ওয়ানশাটারসহ একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামসাদ মিয়া তানভির ওরফে তুষার বিশ্বাস ওরফে সাইফুল সুনামগঞ্জের কলমদার আলীর ছেলে। রিয়াজুল ইসলাম ওরফে সুমন তার বাবা মোসলেম সরদার।

তারা দুজনই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখার (একিউআইএস) সঙ্গে এবিটির যোগসূত্র রয়েছে। তাদের কাছে থেকে উদ্ধার হয় আল কায়েদা সম্পর্কিত বই। এছাড়া আলকায়েদার লিফলেটও পাওয়া যায় তাদের কাছ থেকে।

বসিরহাটের বাসিন্দা মনতোষ দে অস্ত্র সরবরাহকারী। সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অস্ত্র কিনতে এসেছিল বলে জানিয়েছে এসটিএফ। আটককৃতরা বিভিন্ন অস্ত্রকারবারীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল। দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি সামসেদ ও রিয়াজুল ভারতে বেআইনিভাবে ঢুকে পড়েছিল। গত এক-দেড় বছর তারা ভারতেই ছিল। তাদের কোনও পাসপোর্ট বা ভিসা নেই।

গেলো দুর্গাপুজার শেষের সময় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে জঙ্গিদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। গত ২০-২৫ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে আল কায়দা সংক্রান্ত বই ও লিফলেট পাওয়া গেছে।
বিস্ফোরক তৈরির বইও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ল্যাপটপ, পেনড্রাইভও উদ্ধার করা হয়েছে। পাওয়া গেছে ভুয়া নামে আধার কার্ড (ভারতের পরিচয় পত্র)।