এসাইলাম সীকারদের পায়ে ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ

288

ওয়ানবাংলানিউজ: ছোট নৌকায় অথবা লরিতে লুকিয়ে অবৈধভাবে যেসকল ইমিগ্রেনট ব্রিটেনে প্রবেশে করবে, তাদের অনেকের দেহে ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ লাগানো হতে পারে। হোম অফিস বছরব্যাপী এই পায়লট প্রকল্প পরিচালনা করে এর সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এসাইলাম সীকাররা যাতে দেশের ভেতর অদৃশ্য হয়ে না যায়, সেটি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচকেরা বলছেন, অন্য দেশ থেকে অত্যাচার-নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা মানুষকে সরকার অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে। গত মঙ্গলবার রাতে এসাইলাম সীকারদের নিয়ে যে ফ্লাইটটি রুয়ান্ডা যাওয়ার কথা ছিল, তাতে সরকারের কয়েক শ হাজার পাউন্ড খরচ হয়ে গেছে, কিন্তু ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত যায়নি। এখন সরকারের রুয়ান্ডা নীতির বৈধতার ওপর আগামী মাসে রায় দেবে ব্রিটেনের সুপ্রিম কোর্ট। যাদেরকে মঙ্গলবারের ফ্লাইটে রুয়ান্ডা পাঠানো সম্ভব হয়নি, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের আগে, তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে এই ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ লাগিয়ে ছেড়ে দেয়া হতে পারে।

ব্রিটেনে এসাইলাম সীক করা, অর্থাৎ রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করা অবৈধ নয়। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়া এবং মানবপাচারের ব্যবসা বন্ধ করার জন্য সরকারের ওপর চাপ আছে। ইমিগ্রেশনের নানা ধরনের অমীমাংসিত কেইস সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বন্দি না রেখে ট্যাগ লাগিয়ে মুক্তি দেয়ার এই প্রক্রিয়া গত কয়েক বছর যাবত সম্ভব প্রমাণিত হচ্ছে। হোম অফিস বলেছে, যাদের পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী আছে এবং যাদের জামিনে থেকে জামিনের শর্ত পালনের সম্ভাবনা কম, তাদের এই ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ লাগানো হবে। লেবার নেতা বলেছেন, সংবাদপত্রের শিরোনাম হওয়ার জন্য সরকার এসব করছে।

আদালত অথবা কারাগারের আদেশের আওতায় থাকা লোকেদের দেহে ইলেক্ট্রনিক ট্যাগ লাগানো হয়ে থাকে নজরদারি করার জন্য। কিন্তু এমন পদক্ষেপ যদি শরণার্থীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, সমালোচকেরা বলছেন, তবে সেটি হবে নিষ্ঠুরতা এবং তাদেরকে স্বাগত জানানর পরিবর্তে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা।

শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করে, এমন সংস্থাগুলো বলছে, এসাইলাম সীকিং প্রক্রিয়ায় জমে থাকা বিশাল জটিলতার দিকে তাকালে সহজেই অনুমান করা যায়, ট্যাগ লাগানোর নতুন এই উদ্যোগ দিয়ে সরকার জনগণের মনোযোগ অন্যদিকে নেয়ার চেষ্টা করছে।