ইউক্রেন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পথেই যুক্তরাষ্ট্র

82
ইউক্রেন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পথেই যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইউক্রেনে হামলার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পথেই যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর সিএনএনের।

শুক্রবার হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইনের মধ্যে ফোনালাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ এবং রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যোগ দেবে।

এদিকে ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্র বিষয়ক কাউন্সিলের পর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি জোসেপ বোরেল এ তথ্য জানান। খবর সিএনএন

বোরেল বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে নিষেধাজ্ঞার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল। গতকাল ইউরোপীয় কাউন্সিলে এটি শেষ হয়নি। আজ রাষ্ট্রদূত এবং মন্ত্রীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুতরাং রাষ্ট্রপতি পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।

এর আগে ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বৃহস্পতিবারই ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে আলোচনা হয় জানিয়েছেন ইইউ কর্মকর্তারা। খবর বিবিসির।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিন বলেন, ইউরোপে যুদ্ধ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন দায়ী। ইইউ এ জন্য তাকেই দায়ী করবে। ইউরোপীয় নেতাদের কাছে ‘ব্যাপক এবং সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ’-এর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য বৃহস্পতিবারেই পাঠানো হবে বলেও জানান ভন ডার লিন।

জরুরি এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা প্রযুক্তি এবং মার্কেটে রাশিয়ার প্রবেশ বন্ধ করতে তাদের অর্থনীতির কৌশলগত খাতকে নিশানা করব। আমরা রাশিয়ার অর্থনীতির ভিত এবং আধুনিকায়নের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেব। এ ছাড়া আমরা ইইউ দেশগুলোতে রাশিয়ার সম্পদ জব্দ করাসহ ইউরোপীয় অর্থবাজারেও রাশিয়ার প্রবেশ বন্ধ করব বলে তিনি জানান।

ইইউ এরই মধ্যে বুধবার রাশিয়ার ওপর প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আওতায় ইইউ রাশিয়ার রাজনীতিবিদদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং রাশিয়ার স্বীকৃতি পাওয়া পূর্ব ইউক্রেইনের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য কমিয়েছে।

ওয়ান বাংলা নিউজ / ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ / সুমন আহমদ