বগুড়া প্রতিনিধি: আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানো ও পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিল্টনসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী ও গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল বাশার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে জেলা বিএনপি বলছে, কোনও ধরনের উসাকনি ছাড়াই পুলিশ শান্তিপূর্ণ অবস্থানে লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে বিক্ষোভের জন্য বুধবার (১৮ অক্টোবর) বিকালে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা শহরের নবাববাড়ি সড়কে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এসময় তারা সংক্ষিপ্ত একটি সমাবেশ করেন এবং কিছুদূর মিছিল করে পার্টি অফিসের আশপাশে অবস্থান নেন।
বিকাল ৫টার দিকে পুলিশ হঠাৎ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় বিএনপি সমর্থক বগুড়া পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রহিম প্রামাণিক, যুবদলকর্মী আমিনুরসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ।
জেলা যুবদলের সভাপতি শিপার আল বখতিয়ার বলেন, ‘কর্মসূচি শেষে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ অন্যায়ভাবে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ ও গণগ্রেফতার করেছে। মারপিটে যুবদলের জুয়েল ও রিয়নসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ এমন আচরণ করলে ভবিষ্যতে বিকল্প পথ অবলম্বন করা হবে।’
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটানোর কারণে পৌর কাউন্সিলর আবদুর রহিমসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
এদিকে, বিকালে গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ মিল্টনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য উপজেলা পরিষদের দিকে যাচ্ছিলেন। হাসপাতাল রোডে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের দিক থেকে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে মোরশেদ মিল্টনকে গ্রেফতার করা হয়। গাবতলী থানার ওসি খায়রুল বাশার এ খবর নিশ্চিত করেছেন।
তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন বলেন, ‘পুলিশ কোনও ধরনের উসকানি ছাড়াই আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে লাঠিচার্জ ও চার-পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।’ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আটক নেতৃকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন তিনি।















