লেভেলিং আপঃ লন্ডনকে অগ্রাধিকার দেয়া হবেনা

179

ওয়ানবাংলানিউজ: ব্রিটেনের ধনী এবং দরিদ্র এলাকার ব্যবধান কমিয়ে আনার নির্বাচনী ওয়াদা ছিল ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের। উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যকার এই বৈষম্য কমিয়ে আনার এই প্রকল্প ‘লেভেলিং আপ’ নামে পরিচিত। মহামারি সহ নানা কারণে পিছিয়ে পড়ার পর অবশেষে সরকারের লেভেলিং আপ বিষয়ক সেক্রেটারি মাইকেল গভ বুধবার লেভেলিং আপ পরিকল্পনা তুলে ধরেন পার্লামেন্টে। পরিকল্পনার আওতায় আগামী ৮ বছরে ইংল্যান্ডের ৫৫টি এলাকায় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন বিনিয়োগ করবে সরকার। ২০৩০ সাল নাগাদ ব্রিটেনের সর্বত্র মজুরি, কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বৈষম্য দূর করা হবে। লন্ডনের বাইরে গণপরিবহনের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পুরো ব্রিটেনে দ্রুত গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। লন্ডন, ম্যানচেস্টার সহ ইংল্যান্ডের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যমান নির্বাচিত মেয়র পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে লেভেলিং আপ পরিকল্পনায়।

গত সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির শক্ত ঘাঁটি নটিংহামের গেডলিং আসনটি জিতে নেয় কনজারভেটিভ পার্টি। এই এলাকার মানুষ সরকারের পরিকল্পনাকে সতর্কভাবে স্বাগত জানিয়েছে।

সরকার এতদিন লেভেলিং আপ কর্মসূচিকে স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করলেও এখন সেটিকে কৌশলপত্রে রূপান্তরিত করেছে। এবং লেভেলিং আপ বলতে সরকার কি বোঝাচ্ছে, তাও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে।

লেইবার পার্টি সরকারের এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে বলেছে, এগুলো পুরনো ধারনার ভিত্তিতে তৈরি করা একটি শপিং লিস্ট মাত্র। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা দেয়া হয়নি।

লেভেলিং আপ পরিকল্পনার কথা জেনে ব্রিটেনের গ্রামাঞ্চল এবং উপকূলীয় জনপদের মানুষও এখন বলতে শুরু করেছে, তাদেরকে যেন বঞ্চিত করা না হয়। এদিকে লেভেলিং আপ এর সুফল পেতে অনেক বছর লেগে যাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে যারা কষ্টে ভুগছে, তাঁরা বলছে, অপেক্ষা করার মতো পরিস্থিতি তাদের নেই; তাদের পকেটে এখনই টাকা প্রয়োজন।

এদিকে লেভেলিং আপের মুল চেতনায় বলা হয়েছে, যুগের পর যুগ কেবল লন্ডন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার উন্নয়নেই বেশী ব্যয় করা হয়েছে। তাই এখন এই অঞ্চল থেকে বরাদ্দ নিয়ে যাওয়া হবে উত্তরাঞ্চলে। কিন্তু প্রদীপের নিচেও রয়েছে অন্ধকার। লন্ডনের ইজলিংটনের নাম শুনলে অনেকের চোখে এমন দৃশ্য ভেসে ওঠে। অথচ এখানকার কেলিডোনিয়ান রোডেই মাত্র কয়েক ফুটের দূরত্বে এমন দরিদ্র এলাকাও রয়েছে। পল নামের এই ব্যাক্তি আট বছর ধরে এখানে একটি বেকারি পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের একজন নেতা। তাঁর মতে, এই এলাকার উন্নয়ন তাদের সহায়তা প্রয়োজন।

ইজলিংটন কাউন্সিলের বরাদ্দ গত কয়েক বছর যাবত কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁরা বলছে, লেভেলিং আপ এর জন্য তাঁরা তাদের ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছেন না; লন্ডনের দরিদ্র এলাকাগুলোকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

রেডব্রিজের এই তরুণদের ক্লাবে প্রতি সপ্তাহে ২শ তরুণ আসে। তারাও সরকারের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চাইলেও লেভেলিং আপ প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে তহবিল পাওয়া লন্ডনের জন্য অনেক কঠিন হবে। কারণ সরকারের এখন মনোযোগ রাজধানীর বাইরে।