ঢাকা সংবাদদাতা: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিভিন্ন সমাবেশে হাজার হাজার নয়, কয়েকশ মানুষ দেখেই মির্জা ফখরুল সাহেবরা খেই হারিয়ে ফেলেছেন।’
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যের জবাবে একথা বলেন তিনি।
৩২ জেলায় সমাবেশ শেষে বিএনপি মহাসচিবের ‘আওয়ামী লীগকে জনগণ চায় না’ মন্তব্যের প্রতি সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, আসলে মির্জা ফখরুল সাহেবরা তো বছরের পর বছর দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টনের সামনে কয়েকশ মানুষ দেখতেই অভ্যস্ত ছিলেন। এখন বিভিন্ন জেলায় তাদের সমাবেশে আমরা দেখেছি তারা মারামারি করে নিজেরা নিজেদের সমাবেশ পণ্ড করেছেন। বিভিন্ন সমাবেশে হাজার হাজার নয়, কয়েকশ মানুষ দেখেই মির্জা ফখরুল সাহেবরা খেই হারিয়ে ফেলেছেন।
বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে এবং সরকারের সঙ্গে আছে, নির্বাচনে তারা (বিএনপি) সেটি অনুধাবন করতে পারবেন, বলেন হাছান মাহমুদ।
এর আগে মন্ত্রী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে টেলিভিশন অ্যান্ড ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টেলিপ্যাব) সঙ্গে বৈঠক করেন। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা বেগম, টেলিপ্যাবের সভাপতি ইরেশ যাকের, সাধারণ সম্পাদক সাজু মোনতাসের, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন দোদুল, জহির আহমেদ, আনসারুল আলম লিংকন, দপ্তর সম্পাদক একেএম নাহিদুল ইসলাম নিয়াজী, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বাবলু, আর্কাইভ বিষয়ক সম্পাদক মীর ফখরুদ্দীন ছোটন, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আইনুল ইসলাম চৌধুরী চঞ্চল এবং সদস্যদের মধ্যে এম রেজাউল করিম সজল, সাদেক সিদ্দিকী, জাকির খান, ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন, রাশেদা আক্তার লাজুক সভায় অংশ নেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী।
নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আসলে বিএনপি অনুধাবন করতে পেরেছে যে তৈমুর আলম খন্দকারের বিজয় লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি অনুধাবন করতে পেরে আগেই তাকে বিভিন্ন পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পরাজয়ের যে গ্লানি, সেটি থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি।
ছাত্রলীগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে যেন কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকে বদনাম করতে না পারে।
নির্বাচন কমিশন গঠনে সংলাপ নিয়ে বিএনপির বিরূপ মন্তব্যের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি যে সংলাপ করছেন এর কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ করার জন্যেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছেন। বিএনপি যে কথাগুলো বলে সেগুলো মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়েও বলতে পারে। কিন্তু সেটি না করে ক্রমাগতভাবে বাইরে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তারা যে গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে বিশ্বাস করে না সেটিই প্রমাণ করছে।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির সময় যে কাজটি করা হয়েছিল গণমাধ্যমকর্মীদের শ্রমিক বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটি নিরসন করা প্রয়োজন ছিল, এ আইনে সেটি নিরসন করা হয়েছে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মূল বিষয় ঠিক রেখেই অর্থাৎ যে বিষয়গুলো সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল সেগুলো ঠিক রেখেই আইনটি তৈরি করা হয়েছে। এরপর কারও কোনো প্রশ্ন থাকলে এটি সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা যায়। সংসদীয় কমিটি চাইলে সেখানে পরিমার্জন, পরিবর্ধন করতে পারে।















