অস্ট্রেলিয়ার ল্যাবের কয়েক শত মানুষের করোনার ভুল রিপোর্ট

90

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি ল্যাব থেকে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়া হয়েছে কয়েক শত মানুষকে। ওইসব মানুষ করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় পজেটিভ হলেও তাদেরকে দেয়া হয়েছে নেগেটিভ সনদ। বলা হয়েছে, বড়দিনের সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে। ‘ডাটা প্রসেসিং এরর’ বা কম্পিউটারে ডাটা প্রক্রিয়াকরণ ত্রুটির জন্য এমন হয়েছে বলে বলা হচ্ছে। ওই ল্যাবটির নাম দ্য সিডপ্যাথ। এই ভুলের জন্য মঙ্গলবার ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে তারা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

উচ্চ মাত্রায় সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর নিউ সাউথ ওয়েলসে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু মুখের ভিতর থেকে থুথু বা সোয়াপ নিয়ে তা পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে ব্যাপকভাবে বিপরীত ফল।

আক্রান্ত অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই বলে যে, তারা হয়তো অজ্ঞাতেই এই বড়দিনে অনেক প্রিয়জনের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন এই ভ্যারিয়েন্ট। ওদিকে ক্ষমা চেয়ে দ্য সিডপ্যাথ বলেছে, তারা ইচ্ছা করে এমন ভুল করেনি। অপ্রত্যাশিত পরিমাণ মানুষের পরীক্ষা করতে হয়েছে। এ সময় কর্মীদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে মোট ৮৮৬ জন মানুষের রিপোর্টে এমন ভুল তথ্য এসেছে।

এ সপ্তাহে প্রাথমিকভাবে তারা স্বীকার করে যে, বড়দিনে তারা ভুল রিপোর্ট দিয়েছে ৪০০ মানুষকে। তাদেরকে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন তারা। কিন্তু পরেরদিনই ওই ল্যাবরেটরি তাদের ভুল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। তখনও বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কিন্তু পরে যখন তারা আবার জানায় এভাবে আরো কয়েক শত মানুষকে তারা ভুল করে নেগেটিভ রিপোর্ট দিয়েছে, তখন তাদের এই ভুলকে অনেক বড় করে দেখা হয়। বলা হয়েছে, ওইসব মানুষের রিপোর্ট অপরিপক্ব অবস্থায়, অর্থাৎ পুরোপুরি পরীক্ষা সম্পন্ন না হতেই দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ল্যাবরেটরিটি বলেছে, তারা যাদেরকে করোনাভাইরাস নেগেটিভ বলে রিপোর্ট দিয়েছে, তার মধ্যে ৪৮৬ জনের রিপোর্ট আসলে পজেটিভ। আরো পরে তারা একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পরিবর্তে তারা এখন হাতেনাতে কাজ করছে। তারা আরো বলেছে, যখন পরীক্ষার ফল প্রকাশ হচ্ছিল তখন একটি ডাটা প্রসেসিং এরর হয়েছে।

এমন রিপোর্ট পেয়েছেন সিডনির অধিবাসী স্টেফানি কলোন্না। তিনি আসলে করোনায় আক্রান্ত। তবে টুডে শো’তে তিনি বলেছেন, পরিবারকে নিয়ে তিনি এখন উদ্বিগ্ন। বলেন, এখন ব্যাপারটি আমাকে ভীত, উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যদি আমার ভাতিজি ও ভাতিজা পজেটিভ হয়ে যায়, তাহলে তার জন্য শুধু আমি দায়ী থাকবো। কারণ, আমার করোনা পজেটিভ আছে বলে জানতে পেরেছি।

নিউ সাউথ ওয়েলসের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রাড হ্যাজার্ড বলেছেন, ল্যাবরেটরিতে প্রচণ্ড চাপ পড়ার কারণে এমন ‘মিক্সআপ’ হয়েছে। তিনি এবিসি টেলিভিশনকে একথা বলেন। কারণ, নিউ সাউথ ওয়েলসে করোনা পরীক্ষার চাহিদা তীব্র হয়েছে। অনেকে ক্লিনিকে এমন ভিড় দেখে ফিরে গেছেন। ক্লিনিকগুলো তার পূর্ণ সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আবার বহু মানুষ রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ বিলম্বের কথা বলছে।

নিউ সাউথ ওয়েলকে গত সাত দিনে গড়ে প্রতিদিন করোনাভাইরাস শনাক্তকরণে গড়ে কমপক্ষে এক লাখ ৪৫ হাজার মানুষের সোয়াপ সংগ্রহ করছে। এক সপ্তাহ আগে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ১৭ হাজার।