অপরাধীর সন্তানকে কি অপরাধীই হতে হবে?

328

ওয়ানবাংলানিউজ: অপরাধীর সন্তানকে অপরাধীই হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারপরও দেখা যায়, অপরাধী পিতা-মাতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে অনেক সন্তান অপরাধী জীবন বেছে নেয়। ইংল্যান্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কারাগারে থাকা পিতা-মাতার সন্তানদের অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা তিন গুন বেশী হয়। মা অথবা বাবা কারাগারে আছেন, এমন ছেলেদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আর পিতা-মাতা কারাগারে থাকায় সামাজিকভাবে নিন্দিত হয়ে এক চতুর্থাংশ শিশু মানসিক সমস্যায় ভোগে এবং স্কুলে পড়ালেখায় ভালো করতে পারেনা। এক প্রজন্মে থেকে আরেক প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়া এই চক্র ভেঙ্গে দেয়ার লক্ষে সাউথ-ইস্ট ইংল্যান্ডের টেমস ভ্যালি অঞ্চলে একটি পায়লট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে অপরাধী পিতা-মাতার সন্তানদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রকল্পের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বনফায়ার বারবিকিউ পার্টিতে যোগ দেয় একদল শিশু। এদের সবার মধ্যে একটি মিল রয়েছে। তাদের কারো বাবা, আবার কারো মা এখন কারাগারে। শিশুদের সুরক্ষার কথা ভেবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি বিবিসির প্রতিবেদনে। নিজের মেয়েদের সাথে বারবিকিউতে এসেছেন কেইলি। তাঁর জীবনের গল্প শুনলে জানা যায়, পরিবারের এক প্রজন্ম থেকে কিভাবে অন্য প্রজন্মে অপরাধ প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ে।

‘চিলড্রেন হার্ড এন্ড সীন’ নামে একটি চ্যারিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে পাওয়া নিয়মিত সহায়তা কেইলি ও তাঁর মেয়েদের জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।

পরিবারের এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে অপরাধ প্রবণতা ছড়িয়ে পড়া মোকাবেলা করতে টেমস ভ্যালি পুলিশের ভায়োলেন্স রিডাকশন ইউনিট চেষ্টা করছে, পিতা কিংবা মাতা কারাগারে যাওয়ার সাথে সাথেই তাদের সন্তানদের চিহ্নিত করতে।

পুলিশের নেইবারহুড কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট পরিবারের সাথে দেখা করে যদি তাদের সহায়তা প্রয়োজন হয়, তবে সেই পরিবারকে চ্যারিটির সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেন। অসংখ্য পরিবার এখনও জানেনা তারা সহায়তা পেতে পারেন।

বারবিকিউ পার্টিতে কিছু বড় শিশু যোগ দিয়েছিল, যাদের পরিচয় প্রকাশ করতে সমস্যা নেই। এসব শিশু ব্রিটিশ এমপিদের সাথে দেখা করে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে তাদের জীবনের কষ্টের কথা জানিয়েছে। তারা তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অক্সফোর্ডশায়ার ইয়ুথ এওয়ার্ডও জিতে নিয়েছে।

এদিকে কেইলি নিজেকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কার হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

অক্সফোর্ডের এই পায়লট প্রকল্প সফল হলে হয়তো দেশব্যাপী এটি চালু হতে পারে।