আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্ক যখন নিম্নতম অবস্থানে তখন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ সময় দেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনকারী চুই টিয়ানকাই চীনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ আট বছর তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে তিনি দেশ বা তার নিজের সরকারের পক্ষে কতটুকু প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছেন তা নিয়ে মার্কিন বিশ্লেষকরা বিশ্লেষণ করেছেন। তারা চুই’কে একজন উচ্চ মাপের কূটনীতিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বা চীনের কূটনীতিকরা বেইজিংয়ের সিদ্ধান্ত প্রণেতাদের কতটুকু প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছেন তা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ভয়েস অব আমেরিকা।
ওয়াশিংটনে জার্মান মার্শাল ফান্ডে এশিয়া প্রোগ্রামের পরিচালক বোনি গ্লাসার এবং চীনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইনস্টোন লর্ড মূল্যায়ন করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূতের।
তারা বলেছেন, উচ্চ মাত্রায় একজন কার্যকর কূটনীতিক চুই। নিউ ইয়র্কে নিজের বাসা থেকে ফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লর্ড বলেছেন, আমার দৃষ্টিতে খুবই জটিল একটি সময়ে চমৎকার দায়িত্ব পালন করেছেন রাষ্ট্রদূত চুই টিয়ানকাই। তিনি এত দীর্ঘসময় এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এতেই বোঝা যায় তিনি কতটা দক্ষ এবং সম্মানীত। তিনি চীনের স্বার্থের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানে ছিলেন অবশ্যই। মতের নানা রকম তীব্র বিরোধ হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে আলোচনাকে উৎসাহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাসে চুই টিয়ানকাই আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন গ্লাসার। চীনের কূটনীতিকের আচরণ সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় তিনি ছিলেন উদার। আবার অনেক সময় যখন প্রয়োজন, তখন কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি একজন চমৎকার কূটনীতিক।
দায়িত্বের শেষ দিকে চীন সম্পর্কে চুই টিয়ানকা চীনকে সবচেয়ে উন্নত দেশ হিসেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নত দেশের অন্যতম বলে উল্লেখ করেছেন। তার দায়িত্ব পালনের আট বছর পরেও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। বেইজিং বিশ্বজুড়ে আগ্রাসী মনোভাব নিয়েছে। তারা এ সময়ে নতুন এক ধরনের কূটনীতিককে মোতায়েন করেছে। এদেরকে বলা হচ্ছে ‘উলফ ওয়ারিয়রস’।















