ঢাকা সংবাদদাতা: মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হামলা-নির্যাতন আর ধর্ষণের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ‘ঢল’ বাংলাদেশের একার পক্ষে সামালানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘স্রোতের মতো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। মানবিক কারণে আমরা তাদের আশ্রয় দিচ্ছি। কিন্তু রোহিঙ্গাদের এই বোঝা বইবার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই।’
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মানুষের যাতায়াত, সড়কে অবস্থাসহ নানা বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও একপর্যায়ে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন ক্ষমতাসীন দলের এই নীতি-নির্ধারক।
মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার হয়ে গত কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যাদের একটি বড় অংশ উপকূলের বিভিন্ন ক্যাম্পে নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত শরণার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অনেকে আবার কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়েও পড়েছে।
এই বিপুল রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে অবস্থানের মাঝেই গত বছরের অক্টোবরে আবার নতুন করে সহিংসতা দেখা দেয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। তখন আরো প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। এবার ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করল। জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে যাবে।
রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় মিয়ানমারের শার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে প্রতিবাদ জানানোর বিষয়টি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতন করে তাদেরকে যাতে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়, এজন্য আমরা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চারবার তলব করে রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদ করেছি এবং তাদেরকে সতর্কও করা হয়েছে। আমাদের পক্ষে এটুকুই করা সম্ভব ছিল।’
‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা বর্বর নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের হত্যা করা হচ্ছে। বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পাড়ি জমাচ্ছে তারা।’
রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরে যেতে না পারে সেজন্য মিয়ানমার সরকার তাদের সীমান্তে মাইন পুঁতে রেখেছে; এ অবস্থায় বাংলাদেশের করণীয় কী- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো তাদের পুশব্যাক করছি না। আমাদের সাধ্যমতো মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তাদের আ্শ্রয় দিচ্ছি।’
‘অনেকের অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে আসার সময় অস্ত্র ও মাদক নিয়ে আসছে’- এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা ভিটেমাটি হারিয়ে জীবন বাঁচাতে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসছে। যাদের বেশির ভাগেরই গায়ের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।’
তারপরও অস্ত্র ও মাদক নিয়ে আসার যে অভিযোগ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে উঠেছে, সেটা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।















