শেফিল্ড থেকে আহমদ হোসেন হেলাল : আমাদের শেফিল্ডের প্রিয়জন বন্ধু ক্রিস্টন। বেশ হাসি খুশি সদালাপী একজন ভদ্রমহিলা । এক সময় সময় বৃটেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম সুপার মাকের্ট সেইন্সবারীতে উচ্চ পদে কাজ করতেন । সময় পেলেই বই পড়তেন। ভোজন বিলাসী ক্রিস্টিনের পছন্দ বৃটিশ বাংলাদেশী কারী ।
বৃটেন হচ্ছে বিশ্বের কারী ব্যবসার রাজধানী। বৃটেনের রাজা রাণী থেকে রাজপরিবার, বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি সহ সব পেশার মানুষের কাছে কারী এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে । বলাবাহুল্য বৃটিশ মানুষের কারীর প্রতি ভালবাসার শতবর্ষের ইতিহাস রয়েছে ।
বিশেষ করে বৃটিশ বাংলাদেশী কারী শেফদের মজাদার ও যাদুকরী রান্নার কারনে বৃটিশ মানুষের কাছে কারী এখন পছন্দের তালিকায় প্রথম স্থান হয়ে আছে । বলাবাহুল্য বৃটিশ কারী আজ সারা বিশ্বে জনপ্রিয় খাদ্য তালিকায় স্থান পেয়েছে।

এছাড়াও বৃটেনে রয়েছে বিশ্বমানের বৃটিশ বাংলাদেশী কারী রেস্টুরেন্ট এবং চমৎকার মানের পরিবেশনা। শেফিল্ডেও রয়েছে আধুনিক অভিজাত বৃটিশ বাংলাদেশী রেস্টুরেন্ট ।
হাজারো বৃটিশ মানুষের মত শেফিল্ডে জন ও ক্রিসটিন দম্পতির পছন্দে তালিকায় ছিলো বৃটিশ বাংলাদেশী কারী । শেফিল্ডকে অন্যতম কারী ক্যাপিটাল বলা হয়ে থাকে। ক্রিসটিনের যেমন পছন্দ ছিলো বাংলাদেশী কারী ও বাংলাদেশী মানুষ ও খুব পছন্দ করতেন । বাংলাদেশ দেখার খুব ইচ্ছে ছিল তার । কিন্তু দুরারোগ্য ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ।
ক্রিসটিন ও তার স্বামী জন এর নেশা ছিলো বই পড়া। আমার লেখা ইংরেজী গ্রন্থ Poem for World Humanity বইটি বেশ আগ্রহের সাথে সংগ্রহ করেছেন। আসলেই ইংরেজ মানুষ বেশ অভিজাত শ্রেনীর সৌখিন ফ্যাশন দুরসত কিন্তু সাংস্কৃতিক মন কবিতা সাহিত্য বই পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে বেশ অবাক হয়েছি । তারা জানিয়েছেন, বইয়ের মধ্যে লেখা বাংলাদেশ, এশিয়া ও বিশ্বের নানা বিষয়ে পড়ে বেশ মজা পেয়েছেন । আমার বন্ধু তাদেরকে দুইটি বাংলাদেশী গামছা উপহার দিয়েছিলাম । তারা আনন্দে নিয়ে গামছা গলায় দিয়ে রেস্টুরেন্ট সহ বেড়াতে দেখা যেতো। বইয়ের জন্য আমাকে তারা বিনয়ের সাথে কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছেন।
আমার নতুন ইংরেজী কাব্য গ্রন্থ ‘Story of positive universe’ বইটির জন্য বেশ অধির আগ্রহের নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন । আমার বইটি প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় ক্রিসটিনের বই আর পড়া হলো না। ক্রিসটিন ফুসফুসের ক্যানসারে আমাদের ছেড়ে অনেক দুর চলে গেছেন । সেখানে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না ।
সিলেট, কক্সবাজার আর ঢাকা তার দেখা হলো না । ক্রিসটিনের স্বামী সাবেক পুলিশ অফিসার জন জেসপ প্রায় রেস্টুরেন্টে খেতে আসেন। কিন্তু জন স্ত্রী ক্রিসটিনের কথা প্রসংগ চলে আসলেই চোখ জলজল করে উঠে । মানব সভ্যতার শুরু থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার চমৎকার উপহার বিবাহ বন্ধন ।
তাইতো সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী মৃত্যুতে মনে হাহাকার হয়ে উঠেছিল । সম্রাজ্ঞীর মৃত্যুর মহা বিষাদে সৃতিচারনের উদ্দেশ্যে সম্রাট শাহজাহান তৈরী করেছিলেন তাজমহল । আজও পৃথিবীর মানুষের কাছে তাজমহল ভালবাসার সৃতির ইমারত হয়ে দাড়িয়ে আছে । বিশ্বময় সব যুগে যুগলবন্ধী স্বামী স্ত্রীর ভালবাসা চিরন্তন চির অমলান। শেফিলডের ইংরেজ মিঃ জন আজও স্ত্রী ভালবাসার সৃতি চেহারায় ফুটে উঠে।
লেখক ও সাংবাদিক আহমেদ হোসেন হেলাল
















