ওয়ানবাংলানিউজ ডেস্ক: টাওয়ার হ্যামলেটসে ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেসরকারী হাউজিং ডেভেলাপমেন্ট প্রজেক্ট ওয়েস্টফেরি প্রিন্টওয়ার্ক এর প্ল্যানিং পারমিশন পাইয়ে দেয়ার পিছনে সেক্রেটারী অব স্টেইট ফর কমিউনিটিস এন্ড লোকাল গর্ভনমেন্ট রবার্ট জেনরিকের ভূমিকা নিয়ে অনেক কথাই আলোচিত হচ্ছে।
আর এই আলোচনার প্রধান কারন তিনি এই প্ল্যানিং পারমিশন দেয়ার ক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকেই শুধু উপেক্ষা করেননি, তিনি তার নিজস্ব প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরের মতামতকেও উপেক্ষা করেছেন।
আমরা সবাই জানি যে, ক্যানেরি ওয়ার্ফ এলাকার ডকল্যান্ডে ডেইলি স্টার এবং ডেইলি এক্সপ্রেসের সাবেক মালিক রিচার্ড ডেসমন্ড প্রায় ১৫শ বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মানের লক্ষ্যে প্ল্যানিং পারমিশনের জন্য ২০১৮ সালে আবেদন করেন। অতিরিক্ত ঘনবসতি সৃষ্টির পাশাপাশি এতে পর্যাপ্ত সোশাল হাউজিং এর কোন কমিটম্যান্ট না থাকায় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তার আবেদনটি ২০১৯ সালে বাতিল করে দেয়। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলই শুধু এটি বাতিল করেনি আপীলে যাবার পর সরকারের প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরও তা বাতিল করেছিলেন।
কিন্তু কমিউনিটি সেক্রেটারী এগুলোর কোনটিই বিবেচনায় না নিয়ে তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ধনাঢ্য রিচার্ড ডেসমন্ডের আপীল মঞ্জুর করে তাদেরকে প্রকল্পের অনুমোদন দেন।
এঘটনার পর আমাদের সামনে হাইকোর্টে যাওয়া ছাড়া আর কোন রাস্তা খোলা থাকেনি। আর আদালত যখন আমাদের পক্ষে রায় দেয় অর্থ্ াপ্রকল্পটি বাতিল ঘোষনা করে তখন থেকেই মূলত: থলের বিড়াল বের হতে শুরু করে।
দেখা যায়, কমিউনিটি সেক্রেটারী ডেভেলপার কোম্পানীকে প্রকল্পের অনুমোদনই শুধু দেননি, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে যাতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড কমিউনিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার লেভী দিতে না হয় সেই ব্যবস্থাও তিনি করেন। তিনি তড়িঘড়ি করে টাওয়ার হ্যামলেটসে এই আইন পাশের একদিন আগেই তাদেরকে প্রকল্পের অনুমোদন দেন। এছাড়া তার অনুমোদিত প্রকল্পটি ছিলো টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে জমা দেয়া প্রকল্পের চেয়েও বড় আকাড়ের।
আমরা জানতে পারি, কমিউনিটি সেক্রেটারী রবার্ট জেনরিক এবং বিলিয়নিয়ার রিচার্ড ডেসমন্ড প্রকল্প অনুমোদনের আগে এক টেবিলে বসে ডিনার করেছেন এবং ইমেইল ও মোবাইলে টেক্সট চালাচালি করেছেন। আমরা আরো জানতে পারি, প্রকল্প অনুমোদনের ১২ দিন পর রিচার্ড ডেসমন্ড কনজারভেটিভ পার্টিকে ১২ হাজার পাউন্ড ডোনেশনও প্রদান করেছেন।
এসব তথ্য আমাদের পক্ষে কখনোই জানা সম্ভব ছিলোনা যদি না লেবার পার্টি হাউজ অব কমন্সে এসব সত্য উদঘাটনে চাপ প্রয়োগ করতো। চাপের কারনে অনিচ্চছা সত্ত্বেও তিনি যেমন হাউস অব কমন্সে এমপিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন, তেমনি এ সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছেন।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি উদঘাটিত ডকুমেন্টগুলো চাঞ্চল্যকর। কমিউনিটি সেক্রেটারী আমাদের প্ল্যানিং সিস্টেমকে খাটো করেছেন। তিনি এখানেই থেমে থাকেননি তিনি টাওয়ার হ্যামলেটসকে ষ্ক্ররটেন বা পঁচাম্ব বারা হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। আর তার বন্ধু রিচার্ড ডেসমন্ড আমাদেরকে ষ্ক্রমার্কস্টিম্ব বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তারা দুজনই যে পঁচা কাজ করেছেন আজ তাই প্রমাণিত হলো। তাই আমি পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, তারাই পঁচা। টাওয়ার হ্যামলেটস বা আমার বাসিন্দারা নন। তাদের বক্তব্য চরমভাবে নিন্দনীয় এবং অগ্রনযোগ্য।
আমরা বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের বিরোধী নই, কিন্তু আমাদের ন্যায্য হিস্যা ছাড়া আমরা কখেনোই তা মানবো না। পুরো বিষয়টিই আমার কাছে কলংকজনক একটি কাজ মনে হয়েছে। কারন যে প্রক্রিয়ায় তারা দুজন মিলে কাজটি করেছেন তা একেবারেই অগ্রহনযোগ্য। সোশাল হাউজিং তথা সামর্থ্যরে মধ্যে ঘরবাড়ীর জন্য আমরা হাহাকার করছি। আমাদের হাজার হাজার বাসিন্দা বাড়ীর জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। এই মেঘা প্রকল্পে আমাদের এ চাহিদাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় আমরা যাতে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড লেভী না পাই তারও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কমিউনিটি সেক্রেটারী ভাল করেই জানেন যে, ডেভেলপারদের কাছ থেকে লেভী নিয়ে কমিউনিটির উন্নয়নে আমরা ব্যয় করে থাকি।
টাওয়ার হ্যামলেটসকে নিয়ে কমিউনিটি সেক্রেটারীর এসব আচরন আমার জন্য আসলেই উদ্বেগের। টাওয়ার হ্যামলেটস হচ্চেছ সারা দেশের মধ্যে অন্যতম আকর্ষনীয় একটি বারা। এখানে পরিশ্রমি মানুষরা বসবাস করেন এবং প্রতিদিন সবচাইতে বেশী মানুষ এখানে কাজ এবং বসবাসের জন্য আসেন। বৈচিত্র্য এবং প্রাণচাঞ্চল্যের জন্য এর খ্যাতি রয়েছে। কাউন্সিল হিসাবে আমাদের দায়িত্ব হচ্চেছ এখানে উন্নয়ন যাতে বিকশিত হয় এই উদ্যোগ নেয়া এবং বাসিন্দাদের সকল ধরনের সহযোগিতা করা। আর এজন্য রিচার্ড ডেসমন্ড আমাদেরকে ষ্ক্রমার্কস্টিম্ব বলেছেন কীনা আমার জানা নেই, তবে তার জানা উচ্ িএখানে দারিদ্র্যের হার সারা দেশের মধ্যে বেশী।
২০১০ সালের পর আমাদেরকে ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে বাধ্য করা হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে আরো ৩৯ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে কনজারভেটিভ সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। বর্তমানে এর সাথে যোগ হয়েছে করোনা ভাইরাস। ৩ মাসে আমাদের ফান্ডিং ঘাটতির পরিমাণ হচ্চেছ ৩৫.৭২ মিলিয়ন পাউন্ড। সব মিলিয়ে আমরা একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। কমিউনিটি সেক্রেটারী সংক্রমন শুরুর প্রথম দিকে লোকাল কাউন্সিলগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি আস্তে আস্তে যে, তা থেকে সরে আসছেন তাও দৃশ্যমান হচ্চেছ।
সবশেষে বলবো, সবাই আশা করেন সরকারের সবচাইতে শক্তিধর মানুষরা বিশ্বাস এবং আস্থার জায়গাটা ধরে রাখবেন। কিন্তু ওয়েস্টফেরি কেলেংকারী থেকে করোনা ভাইরাস পরবর্তী সকল কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রবার্ট জেনরিকের ভূমিকা সবখানে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আর এজন্য প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই কেলেংকারীর অধ্যায় সমাপ্ত বলে মনে করলেও আমি বিশ্বাস করি তা নয়। এটি অন্যকিছু।















