সাইফ হাসান: মানবপাচারের শিকার তরুণদের নিজ দেশ আলবেনিয়ায় ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ আসতে পারে। দেশটির অভিবাসন আদালতের উচ্চ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের প্যানেল এক ঐতিহাসিক রায়ে এই নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, অতীতে মানবপাচারের শিকার হওয়া তরুণরা নিজ দেশে ফিরলে এখনো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এছাড়া আলবেনিয়ায় বয়স্ক পুরুষদের সুরক্ষায় কোনো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র না থাকা এবং আবারও তাদের দিয়ে জোরপূর্বক অপ*রাধমূলক কাজ করানোর আশঙ্কা রয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে পাচারের শিকার বহু তরুণকে এখনই জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাজ্যের অভিবাসন বিষয়ক উচ্চ ট্রাইব্যুনাল মানবপাচারের শিকার ২১ বছর বয়সী এক আলবেনীয় তরুণের আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করে এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বেলজিয়াম সফরকালে একটি অপরাধী চক্রের হাতে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে তাকে যুক্তরাজ্যের আরেকটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যেখানে তাকে জোর করে গাঁজা চাষের কাজে বাধ্য করা হয়েছিল। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আদালত রায় দিয়েছেন যে, তিনি নিজ দেশে ফিরে গেলে পাচারকারীদের পক্ষ থেকে এখনো চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্য থেকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে আলবেনীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। গত পাঁচ বছরে এ সংখ্যা শীর্ষে রয়েছে এবং গত মার্চ পর্যন্ত এক বছরেই দেশটিতে ২ হাজার ২৪৭ জন আলবেনীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আগে নারীদের বেশি পাচার করা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুল সংখ্যক কিশোর ও তরুণকে মাদক ব্যবসায় খাটানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে পাচার করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান ইসলিংটন ল সেন্টারের আইনজীবী এসম ম্যাডিল আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সুসংগঠিত অপরাধী চক্রগুলো তরুণদের ওপর যে ভয়াবহ নিপীড়ন চালায় তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই রায়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের বাস্তবতা ও জীবনের ঝুঁকিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
#যুক্তরাজ্য #মানবপাচার #আন্তর্জাতিকসংবাদ #aknews #onebanglanews















