ব্রিটেনে লকডাউন কিছুটা শিথিল: জুন থেকে প্রাইমারী স্কুল, জুলাই থেকে রেস্টুরেন্টসহ দোকান চালু হতে পারে

13738

ওয়ানবাংলানিউজ: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আগামী দুই মাসের রোড় ম্যাপ ঘোষণা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। লকডাউন শিথিলের অংশ হিসেবে সর্তকতামূলক প্রদক্ষের অংশ হিসেবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে লকডাউন প্রত্যাহারের ঘোষণাদেন তিনি। রবিবার লন্ডন সময় ৭টায় এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এখন থেকে ইংল্যান্ডের বাসিন্দারা ঘরের বাইরে যতক্ষন ইচ্ছা এক্সারসাইজ বা অনুশীলন করতে পারবেন। তবে তাদের অবশ্যই দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এখন থেকে কেউ যদি ঘরে কাজ করতে অসুবিধা হয় তবে তিনি কাজের জায়গায় গিয়ে কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে নির্মান ও উৎপাদনশীল কর্মক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তারা চাইলে আগামী কাল থেকে কাজ শুরু করতে পারবে।

আগামী বুধবার থেকে জনসাধারণ পার্কে যেতে পারবে, গাড়ী চালিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারবে। এমনকি তারা খেলাধুলা করতে পারবে। তবে তা হতে হবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

তবে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ছোট ছোট ভুলের জন্যও জরিমান দিতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক দূরত্বের ব্যাপারে।

তিনি বলেন, এই পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষন করা হবে। যদি প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে তাহলে আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া হবে।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি বিশ্বাস করি আগামী ১জুন থেকে প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরে যেতে পারবে। তবে কেবলমাত্র রিসিভশন, ইয়ার ওয়ান এবং ইয়ার সিক্স খুলা থাকবে।

রেস্টুরেন্ট, ক্যাফে, দোকানপাটসহ হসপিটালিটি সেক্টর জুলাই মাসের প্রথম থেকে খোলা শুরু হতে পারে যদি ব্যাপক সমর্থন থাকে।

তিনি বলেন, আকাশ পথে ব্রিটেনের বাইরে থেকে আসা মানুষদের কোয়ারেইন্টাইনে থাকতে হবে।

ব্রিটেনে বর্তমানে কভিড ১৯ এর প্রজনন হার ০.৫ থেকে ০.৯ এর মধ্যে। তবে সম্ভাব্য মাত্র একের নীচে।
তিনি বলেন, লকডাউনের কারনে ব্রিটেন চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। অর্ধ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঝুকিতে ছিলেন।
তিনি আগামীকাল থেকে কর্মস্থলে ফিরতে হলে সর্তক হওয়ার আহবান জানান। বিশেষ করে গণপরিবহনে যাতায়াত না করার উপর গুরুত্বদেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে জনগণকে সর্তক করতে ‘অ্যালার্ট’ পদ্ধতি চালুর ঘোষণাও দিয়েছেন জনসন। করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত উপাত্তের ভিত্তিতে নতুন অ্যালার্ট বা সতর্কতা পদ্ধতিতে ১ থেকে ৫ পর্যন্ত মাত্রা নির্ধারণ করা থাকবে। আর এখানে ঝুঁকি কোন পর্যায়ে আছে, তা জনগণকে জানানো হবে।

নতুন পদ্ধতি অনুসারে, সতর্কসংকেতটি অবস্থাভেদে ধাপ–১ থেকে ধাপ–৫ পর্যন্ত যাবে। ধাপ–১ থাকবে সবুজ রঙের। ধাপ–৫ থাকবে লাল রঙের। রঙের পার্থক্য অনুসারে জনগণকে ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। জনসন বলেছেন, যুক্তরাজ্য বর্তমানে ৩ নম্বর ধাপে রয়েছে।

প্রাদুর্ভাব শুরুর পর যুক্তরাজ্যে গত ২৩ মার্চ থেকে লকডাউন কার্যকর হয়। জনসনের এই ভাষণের আগে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ কমিটি কোবরা (কেবিনেট অফিস ব্রিফিং রুম) জরুরি কমিটির বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ, উন্নয়ন সংস্থা এবং মেয়র অব লন্ডনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।