ব্রিটেনে করোনাভাইরসে মৃতদের কবর দেওয়া নিয়ে বিপদে পরিবার

7981

মো: রেজাউল করিম মৃধা: লন্ডন: “বৃটেনে-আজ সোমবার করোনাভাইরসে মারা গেছে ৭১৭ জন।” “মরার উপর খড়ার ঘা”-এ প্রবাদটির যথাযথ প্রমানিত হচ্ছে এই করোনাভাইরসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর লাশ দাফননিয়ে । যে লাশ না যায় দেখা, না যায় ছোঁয়া , নেই গোসল, নেই জানাজা।

প্রথমত , পরিবার কে হোম কুয়ারেন্টে রাখা হয় । এরা দেখা পর্যন্ত করতে পারে না। আত্বীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব এক মাত্র ভরসা । কিন্তু যেখানে পরিবারের কেউ বের হতে না পারায় এই সাহায্য কারীরা পরেন মহা বিপদে।

দ্বিতীয় হচ্ছে – কোথায় লাশ রাখা হবে? কবে জানাজা হবে? কোথায় কবর হবে? ইত্যাদি খোঁজ খবর নেওয়া। এখানে যেহেতু ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ। তাই ফোনের মাধ্যমেই বেশীর ভাগ কাজ করতে হয়।

তৃতীয়ত হচ্ছে – অর্থ । আপনার জানেন লন্ডন সহ ইউকের এক একটি কবরস্থান এক এক রকমের নিয়ম, সেই সাথে বাজেট বা খরচ ও ভিন্ন। তবে যত কমই হোক, কম পক্ষে তিন হাজার পাউন্ড । ঐ যে বললাম শহর ভেদে,স্থান ভেদে দাম আরো বেশী, শুধু মাত্র টাওয়ার হ্যামলেটস রেসিডেন্স দের জন্য লন্ডনের পাশে ছিটক্যাব কবরস্থানের ডিসকাউন্ট এ মাত্র আট শত পাউন্ডে কবর দেওয়ার ব্যাবস্থা আছে। যা টাওয়ার হ্যামলেটস এর সাবেক মেয়র এটির অনুমোদন করে গেছেন কিন্তু সেখানে তো সবার জন্য নয়। শুধু মাত্র নির্দিষ্ট এলাকবাসীদের জন্য। এটাই বা কম কি?

চতুর্থ হচ্ছে- সব পরিবারে কাছে এই পরিমান অর্থ জমা থাকাটা সহজ নয়। অনেক অর্থের মালিক হতে পারেন। কিন্তু মৃত্যুর জন্য মৃত্যুর কবর দেওয়ার জন্য টাকা রেখে যাওয়া লোকদের সংখ্যা খুবই কম। তাও যদি হতো স্বাভাবিক মৃত্যু। কিছু দিন পূর্বে সাংবাদিক ইসহাক কাজল ভাই মারা গেছেন তার স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ্য ছিলেন তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে তিনি কবরের জন্য অর্থ রেখে গেছেন। এমন ব্যাক্তির সংখ্যা খুবই কম।

এটা তো স্বাভাবিক মৃত্যু নয় , তাই প্রস্তুতি ও নেই। অনেক বিত্তবান হওয়া সত্যে ও কবরদেওয়া নেওয়া নিয়ে অনেকের ঝামেলা হয়েছে। অনেক সমস্যা সম্মুখীন হয়েছে । অনেক বিত্তবানদের কেও দেখা গেছে কবর দেওয়ার জন্য অন্যের কাছ হাত পাত্বতে দেখা গেছে।

আর যাদের এখানে কেউ নেই, অথবা ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে নতুন এসেছেন। অথবা সন্তানরা একেবার ছোট ছোট। কিম্বা তিনি এখানে আছেন দীর্ঘদিন কিন্তু কাগজ নেই। তার কি অবস্থা, একবার ভাবুন তো? এখানে মৃত্যু ব্যাক্তির লাশ দাফনের জন্য বিশাল অর্থ আমাদের কে ভাবিয়ে তুলেছে।

ইসালাম বলে মৃত্যুর আগেই সামানা তৈরী করো। সেই সামানা হলো নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, জাকাত সহ ইসলামের আমল গুলি পালন করে ইমানদার হওয়া বা ইমানকে মজবুত করে নেওয়। আর সাথে সাথে শেষ বিদায়ের দিন কবরস্থানের জন্য অর্থ ব্যাবস্থা রেখে যাওয়া ও আমাদের অন্যতম কাজ ।বলাতে যায় না কার কখন ডাক আসে।

পঞ্চম- অর্থ সংগ্রহের জন্য পরিবারের অনুমতি নেওয়াটা ও এক মহাসমস্যা । লোক লজ্জার ভয়ে না পারে কইতে,না পারে কইতে। যখন বাড়ীর একমাত্র লোকটি হঠাৎ চলে যায়।কিছুইতো বলে যেতে পারেননি। ব্যাংকে কি অবস্থা তাও এখন জানা নেই। জানতে হলেও তো ব্যাংকে যেতে হবে। হয়তো ব্যাংকে অনেক টাকা আছে । টাকা থাকলেই লাভ কি? যদি সময় মত কাজে না লাগে।
তাই কবি বলেছেন”

“পুঁথিগত বিদ্যা, আর পর হস্ত ধন।
নহে বিদ্যা, নহে ধন।হলে প্রয়োজন ।”

কিন্তু এরা তো ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। টাকা ব্যাবস্থা না করতে পারলেও কিন্তু লাশ তো দাফন সম্পন্ন করতে হবে। এখানে নিকট আত্বীয় ও বন্ধু বান্ধব দের নিজ থেকেই কবরস্থানের কাজটি করতে হবে। লাশ না দেখার বেদনা, গোসল ছাড়া দাফন। সীমিত লোকের দায় সারা জানাজা।এসব সত্যি এক বেদনা দায়ক মর্মস্পর্শী।

শেষয়ত- শেষ ভরসা চ্যারিটি সংস্থা । যখন লাশের পরিবার অর্থ দিতে অপারগ । বন্ধু বান্ধব, আত্বীয় স্বজন নেই তখন চ্যরিটি সংস্থা গুলিই একমাত্র ভরসা।বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থা গুলি কবর দেওয়ার ব্যাবস্থা করে। ইউকের বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন চ্যারিটি সংস্থা আছে তারা তাদের সাধ্যমত এ লাশের কবরের ব্যাবস্থা করে থাকে। লন্ডনে চ্যারিটি সংগঠন ইডেন কেয়ার করোনাভাইরসে মৃত্যু ব্যাক্তিদের লাশ দাফনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।যাদের কেউ নেই তাদের লাশ দাফনের ব্যাবস্থা করে থাকে।

আল্লাহর কাছে দোওয়া করি আমাদের সবাই যেন হেফাজত করেন। এই মহামারি করোনাভাইরস থেকে আমাদের সুস্থ্য রাখেন। সবাই ঘরে থাকুন। নিরাপদে থাকুন। আসুন আমরা সবাই সবার জন্য দোওয়া করি। আমিন।