ঢাকা সংবাদদাতা: সংগ্রামী ভাষা কন্যা ও বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ বার্ধ্যক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না ল্লিলাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
উক্ত বিভাগের অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ইন্তেকাল করেছেন। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি।’
অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, “পরপারে আল্লাহর সম্মানিত মেহমান হিসেবে থাকুক আমাদের সবার প্রিয় ও সম্মানিত শিক্ষক বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক, ভাষাকন্যা ড সুফিয়া আহমেদ। পবিত্র রজনীতে আমরা সবাই তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করি।”
অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে তার অবদান জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। এসময় তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ এর সংক্ষিপ্ত পরিচয়:
১৯৯৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক, ২০০২ সালে একুশে পদক ও ২০১৫ সালে সুফিয়া কামাল পুরস্কারসহ বহু খেতাবে ভূষিত সুফিয়া আহমেদ ১৯৩২ সালের ২০ নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বর্তমান ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক নির্বাচিত হন তিনি। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
তার পিতা মুহম্মদ ইবরাহিম ছিলেন বিচারপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। মাতা লুৎফুন্নেসা ইবরাহিম। ১৯৪৮ তিনি সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। বরিশালের ব্রজমোহন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। ১৯৫০ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গকারী এবং সান্ধ্য আইনের বিরুদ্ধে মিছিলকারী সাহসী নারীদের অগ্রজ ছিলেন তিনি। ১৯৬০ সালে তিনি লন্ডন থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করে দেশে ফিরে ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। পরে ১৯৮৩ সালে অধ্যাপক হন। এছাড়া ইস্তানবুলের বসফরাস বিশ্ববিদ্যালয় এবং উইজকনসিনের মিলোউকির আলভার্নো কলেজেও আমন্ত্রিত অধ্যাপক ছিলেন তিনি।
অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্য ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তার দুই সন্তানের মধ্যে পুত্র সৈয়দ রিফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্টের বিচারক। কন্যা রাইনা আহমেদ চিকিৎসক।















