প্রসঙ্গ করোনা ভাইরাসে করণীয়: লিখেছেন এম এ করিম ইবনে মছব্বির

645

আক্রান্ত এলাকা পরিহার করা: আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) মহামারি আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করতে ও আক্রান্ত এলাকা থেকে বাহির হতে নিষেধ করেছেন। রোগ যাতে ছড়িয়ে না পরে সে জন্যই তিনি আক্রান্ত এলাকা না ছাড়তে বলেছেন (বুখারী শরীফ)।
বেশি বেশি তাওবা করা:
রাসুল (সাঃ)বলেছেন যখন কোন জাতির মধ্যে অশ্লীলতা, পাপাচার দেখা দেয় তখন আল্লাহ তায়ালা সে জাতির উপর এমন ধরনের মহামারি বা দূর্যোগ পাঠান যা পূর্বেকার লোকদের মাঝে কখনও দেখা য়ায়নি (ইবনে মাজাহ শরীফ)।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধ মেনে চলা, হালাল উপার্জন খাওয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, ধুমপান পরিহার করা, প্রয়োজনে মাস্ক বা মুখোশ ব্যবহার করা প্রয়োজন।

মুহাম্মদ সাঃ যেকোন কঠিন রোগ এবং মহামারী থেকে বাঁচার জন্য দুয়া এবং কর্মপন্থা শিখিয়েছেন। নিচের দুয়াগুলো বেশি করে পড়া যেতে পারে:
#দুয়া -১
ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻣُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﺍﻷَﺧْﻼَﻕِ ﻭَﺍﻷَﻋْﻤَﺎﻝِ ﻭَﺍﻷَﻫْﻮَﺍﺀِ ﻭَﺍﻷَﺩْﻭَﺍﺀِ
উচ্চারণঃ
আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন মুনকারা-তিল আখলা-ক্বি ওয়ালআ’মা-লি ওয়ালআহওয়া-ই ওয়ালআদওয়া-‘।
অর্থঃ
হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম, কুপ্রবৃত্তি এবং কঠিন রোগসমূহ থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
(সঃ তিঃ ৩/১৮৪, সঃ জামে’ ১২৯৮নং)
#দুয়া -২
ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﻋُﻮْﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺒَﺮَﺹِ ﻭَﺍﻟْﺠُﻨُﻮْﻥِ ﻭَﺍﻟْﺠُﺬَﺍﻡِ ﻭَﻣِﻦْ ﺳَﻲِّﺀِ ﺍﻷَﺳْﻘَﺎﻡِ
উচ্চারণঃ- আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল বারাস্বি অলজুনূনি অলজুযা-মি অমিন সাইয়্যিইল আসক্বা-ম।
অর্থঃ- হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট ধবল, উন্মাদ, কুষ্ঠরোগ এবং সকল প্রকার কঠিন ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(সুনানে আবু দাউদ – ১৫৫৪)

#দুয়া -৩
বিছমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াজুররু মা আছমিহিশাইয়ন ফিল আরজ্বি ওয়ালা ফিছ ছামাই ওয়া হুয়াছ ছামিউল আলিম।
অর্থঃ আল্লাহর নামে শুরু করছি যার নামে শুরু করলে আসমান জমিনের কোন বস্তুই ক্ষতিসাধন করতে পারবে না আর তিনি শ্রোতা মহাজ্ঞানী ( আবু দাউদ)
সদা সর্বদা মহান আল্লাহ পাকের উপর ভরসা রাখা দরকার। ঔষধ উছিলা মাত্র। একমাত্র আল্লাহ পাকই আরোগ্য শিফা দানকারী। আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হচ্ছে: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিলে সাথে সাথে কাচা পিয়াজ এবং কাচা রসুন সমান্য লবন দিয়ে খাওয়া এবং আধা ঘন্টা কোন পানি পান না করা। পরে কোনো গাছের নিচে বসে অন্তত আধা ঘণ্টা শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া। যদি সংগ্রহে থাকে তা হলে জমজমের পানি পান করা। বাইরে যাওয়ার আগে বা আসার পরে ৩০ মিনিট সময় ধরে নাঁক দিয়ে গরম পানির নেওয়া। খেজুর ও ফল খাওয়া। বেশি বেশি করে পানি পান করা। ৫ ওয়াক্ত নামাজে যত্নবান হওয়া, নিয়মিত কোরান তেলাওয়াত করা। সকল প্রকার হারাম পরিহার করা। সকল প্রকার হতাশা বিষন্নতা থেকে মুক্ত থাকা। মসজিদ ভিত্তিক জীবন গড়ে তোলা। নিয়মিত কালোজিরা আহার করা।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে আসমান জমিনের সকল প্রকার বালা মছিবত থেকে হেফাজত করুন (আমিন)।