আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রবল ব্যস্ততায় মাত্র ১০ মিনিটে নিজের বিয়ে সারতে হয়েছে চীনের এক চিকিৎসককে। এর পরেই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায়।
কাতারভিত্তিক আলজাজিরার খবরে জানা গেছে, হুবেইপ্রদেশসহ গোটা দেশেই যেভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তাতে চিকিৎসক, নার্সদের ওপরে প্রবল চাপ পড়েছে। তাদের দিনরাত এক করে কাজ করে যেতে হচ্ছে।
আর সেই প্রবল ব্যস্ততার মধ্যেই বিয়ে করলেন চীনের এই চিকিৎসক। চায়না টাইমসের খবরে জানা গেছে, শানডংয়ের হেজে ৩০ জানুয়ারি এই চিকিৎসক গাঁটছড়া বাঁধেন। আর বিয়ে সেরেই রণব্যস্ততায় তিনি ফিরে যান কর্মক্ষেত্রে। আক্রান্ত মানুষের সেবা করতে।
জানা গেছে, যেহেতু করোনাভাইরাসের দাপট শুরু হওয়ার আগে থেকে বিয়ের তারিখ পাকা হয়ে গিয়েছিল, তাই ওই দম্পতি আর দেরি করতে চাননি। তবে বিয়ে করলেও তা তারা সেরেছেন কোনোমতে। বিয়েতে কেবল তাদের বাবা-মাই আমন্ত্রিত ছিলেন।
লি ঝিকিয়াং নামের ওই চিকিৎসক শানডং বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় হাসপাতালে কর্মরত। বরের এ সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন স্ত্রী ইয়ু হোংগ্যান।
চীনের সামাজিকমাধ্যম ওয়েইবোতে প্রকাশিত হয়েছে সেই বিয়ের ছবি। ছবিতে নবদম্পতিকে দেখা যাচ্ছে মুখে মাস্ক পরিহিত অবস্থায়।
এদিকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটানা ১০ দিন কাজ করার পর চীনের এক তরুণ চিকিৎসক মারা গেছেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
২৭ বছর বয়সী সোং ইয়ানজি ছিলেন হুয়ানপ্রদেশের স্থানীয় একটি টিমের নেতা। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার মূল কেন্দ্রভূমি হুবেইপ্রদেশের সঙ্গে হুয়ানের সীমান্ত রয়েছে।-খবর মেইল অনলাইন
কর্মকর্তারা বলেন, একটি মোটর রাস্তার চালক ও যাত্রীদের তাপমাত্রা পরিমাপের দায়িত্বে ছিলেন ইয়ানজি। গত ২৫ জানুয়ারি থেকে একটানা কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি।
এই মহামারীর নিয়ন্ত্রণে কঠির পরিশ্রম করায় চিকিৎসকদের নায়কোচিত ভূমিকার প্রশংসা ইতিমধ্যে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। রোগটিতে এখন পর্যন্ত ৫৬৪ জন মারা গেছে।
হ্যাংসান কাউন্টির কেইউন শহরে জন্মগ্রহণ করেন ইয়ানজি। সোমবার ভোরে নিজের কক্ষে ফেরার পরেই তিনি মারা যান।
মাজি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তার দুই বছরের বড় বোন বর্তমানে উহানে আটকা অবস্থায় রয়েছেন। কঠিন সময়ে ভাইয়ের পাশে থাকতে না পারায় নিজেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নিজের ভাইকে একজন অসাধারণ মানুষ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সে ছিল খুবই চিন্তাশীল। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, সে আর দুনিয়াতে নেই। বাড়িতে ঘরের কাজে সে সহায়তা করত। তার মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য বিপর্যয়কর।















