ভারতে আটক ২০৮ জন মাদ্রাসা ছাত্রকে নিয়ে তুলকালাম

844

ঢাকা সংবাদদাতা: ভারতে আটক ২০৮ জন মাদ্রাসা ছাত্রকে নিয়ে দেশটির ব্যাঙ্গালোর ক্যান্টনমেন্ট রেল স্টেশনে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে গেছে। সেখানে তাদেরকে বাংলাদেশি বলে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখে রেলওয়ে পুলিশ। এ সময় দেখা দেয় ভীষণ বিশৃংখলা ও সহিংসতা।

বুধবার এ খবর দিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ওই বালকদের বাংলাদেশি হিসেবে আটক করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ওই বালকগুলো বাংলাদেশি নয়। তাদের বেশির ভাগই বিহারের। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন প্রাপ্ত বয়স্ক। তারা স্থানীয় সময় সোমবার ১১টা ৪০ মিনিটে গুয়াহাটি এক্সেপ্রেস থেকে নামার পর আটক করা হয়। বলা হয়, তারা বাংলাদেশি। বাংলাদেশ থেকে পাচার করে তাদেরকে নেয়া হচ্ছে কেরালায়। এমন গুজবে তাদেরকে আটকে রাখা হয় বিকাল ৫টা পর্যন্ত। পরে দেখা যায় ওই বালকদের বয়স ৯ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। তারা মাদ্রাসা ছাত্র। বার্ষিক ছুটি শেষে তারা কর্নাটকের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ফিরে যাচ্ছিল। এ নিয়ে ব্যাঙ্গালোর রেলস্টেশনের এক নম্বর প্লাটফরমে সারাদিনই উচ্চ মাত্রার নাটকীয়তা চলতে থাকে। এতে জড়িয়ে পড়ে আরএসএস নেতাকর্মীরা, মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠন, এনজিওগুলোর প্রতিনিধিরা ও শিশু পাচার বিরোধী গ্রুপগুলোর সদস্যরা। এক পর্যায়ে পাচারবিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয় কেউ কেউ। ফলে সৃষ্টি হয় এক বিশৃংখল অবস্থা।

এদিকে সোমবার স্থানীয় সময় ৩টায় বিশাখাপত্তম রেল স্টেশনে পৌঁছতেই এ ঘটনা ঘটে। সেখানে বেশ কিছু ছেলে নেমে যায়। এ সময় তাদেরকে যেতে দিতে পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান শিক্ষকরা। তারা রাজি হন। কিন্তু টিটিই তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। একই ঘটনা ঘটে বিজয়াওয়াদা স্টেশনে। ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে টিভি চ্যানেল ও পুলিশরা এসব ছেলেকে নিয়ে নেয়।

ওদিকে এম ধানুশ ও অন্য দু’জন স্বেচ্ছাসেবক এসব ছেলেকে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হচ্ছে বলে জিআরপি থানায় অভিযোগ করে। ধানুশ বলেন, আমরা যখন এই অভিযোগ জমা দিচ্ছি তখন ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের বিপরীতে আমাদের তিনজন সদস্যের ওপর ১৫-১৬ জনে আক্রমণ করে।

তবে তুমাকুরার আমলাপুর মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ হারুন বলেছেন, এসব ছাত্রের বাড়ি বিহারের বিভিন্ন গ্রামে। তারা পবিত্র রমজানের ৬ সপ্তাহের ছুটি শেষে মাদ্রাসায় ফিরছে। তারা বিহারের কৃষাণগঞ্জ থেকে ট্রেনে উঠেছে। কিন্তু ব্যাঙ্গালুরু ভিত্তিক একজন পাচারবিরোধী কর্মীর ফোনকলে শুরু হয় উত্তেজনা। ওই ব্যক্তি জিআরপিতে ফোন দেন।