পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি: ব্রিটেন ,যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের বয়কট

1087

ওয়ানবাংলানিউজ: কয়েক মাসের আলোচনার পর পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণে সম্মত হলো জাতিসংঘের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১২২টি দেশ এ সংক্রান্ত চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ৫০ দেশের অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার সাপেক্ষে ৯০ দিন পর চুক্তিটি কার্যকর হবে। তবে ওই চুক্তি বয়কট করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। এর পরিবর্তে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের পুরনো চুক্তিতেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছে তারা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে এই আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট পড়ে ১১৩টি। বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩৫টি। ১৩টি দেশ ভোট দানে বিরত থাকে।

পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে ৭ দশকের প্রচেষ্টার পর শুক্রবার প্রথমবারের মত পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করতে শুক্রবার জাতিসংঘে ওই নতুন বৈশ্বিক চুক্তি হয়। জাতিসংঘের ১৯২ টি সদস্যদেশের মধ্যকার দুই-তৃতীয়াংশ দেশের আলোচকরা ১০ পাতার চুক্তি চূড়ান্ত করেন। চুক্তির পক্ষে পড়েছে ১২২ ভোট। একটি ভোট পড়েছে বিপক্ষে এবং সিঙ্গাপুর ভোটদানে বিরত ছিল। ভোটে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশ্বের ৯ টি পারমাণবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ দেশের কোনওটিই ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এ চুক্তি নাকচ করে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর হুমকির বিষয় বিবেচনায় নিলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার দিক দিয়ে এ চুক্তি একবারেই বাস্তবতাবিবর্জিত। এক বিবৃতিতে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ তিনটি বলেছে, ওই চুক্তি নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা তারা বয়কট করেছে এবং এতে যোগ দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। যৌথ এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রেক্রফ্ট এবং ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাঁসোয়া ডুলাট বচুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ এবং নিয়ন্ত্রণহীন উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেন।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধকরণে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং ইসরায়েল। এমনকি যে দেশটি পারমাণবিক বোমার আঘাতে সবচেয়ে বাজেভাবে আক্রান্ত হয়েছিল, সেই জাপানও ‘না’ ভোট দিয়েছিল। চীন, ভারত ও পাকিস্তান ভোট দানে বিরত থাকে। অপরদিকে, অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, মেক্সিকো, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সুইডেন এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। গত এপ্রিলের ওই আলোচনা শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি যখন আলোচনা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, তখন তার সঙ্গে ছিল আরও ২০ দেশের সমর্থন। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের মতো পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন দেশ ছাড়াও ছিল দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক এবং পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশ।

ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পারমাণবিক দৌড়ে সবার উপরে দেখতে চান তিনি। এজন্য ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ওবামা প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করলেও পারমাণবিক অস্ত্রে নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতায় তিনি ওবামার ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছেন।